১০/০২/২০২৬, ২৩:২৩ অপরাহ্ণ
21 C
Dhaka
১০/০২/২০২৬, ২৩:২৩ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

দেশবাসী এখন পরিবর্তন চায়, আমরা সেই পরিবর্তন আনব : মিয়া গোলাম পরওয়ার

দেশবাসীর প্রত্যাশা এখন স্পষ্ট তারা পরিবর্তন চায়। দীর্ঘ ৫৪ বছর যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, তারা পরীক্ষিত ও ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি উই উইল ব্রিং দ্য চেঞ্জ।”

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এদিন সকাল থেকেই খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে রাজনৈতিক ব্যস্ততা ও উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেন।

নির্বাচন আচরণবিধি অনুসারে একজন প্রার্থীর সঙ্গে সর্বোচ্চ পাঁচজন প্রতিনিধি নিয়ে খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আ স ম জামশেদ খোন্দকারের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। খুলনা-৫ আসনে দলটির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তার সঙ্গে ছিলেন খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মিয়া গোলাম কুদ্দুস ও অ্যাডভোকেট সরদার ফিরোজ কবীর।

খুলনা-৬ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। খুলনা-২ আসনে মনোনয়ন জমা দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুনাইন হেলাল। খুলনা-১ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এছাড়া খুলনা-৪ আসনে মাওলানা কবিরুল ইসলাম এবং খুলনা-৩ আসনে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগর আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান মনোনয়নপত্র জমা দেন।

মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী ৮ দলীয় সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। সম্প্রতি আরও দুটি দল যুক্ত হওয়ায় জোটের সংখ্যা এখন ১০-এ দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত আসনভিত্তিক সমঝোতা ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য কারচুপি ও ভোটাধিকার হরণের আশঙ্কার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ভোট ডাকাতি বা রিগিংয়ের যেকোনো চেষ্টা জনগণ প্রতিহত করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

খুলনা-১ আসনে জামায়াতের হিন্দু প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “ধর্ম নয়, ন্যায়, ইনসাফ ও সুশাসনই জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির মূল দর্শন। এই আদর্শে বিশ্বাসী যে কেউ আমাদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।”

এ বিষয়ে কৃষ্ণ নন্দী বলেন, হিন্দু, বৈদ্য, খ্রিস্টান ও মুসলমান সব ধর্মের মানুষের কাছ থেকেই তিনি ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন এবং নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী।

মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন হওয়ায় সকাল থেকেই জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভিড় দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

পড়ুন- শীতে জবুথবু নোয়াখালী, দুর্ভোগে ছিন্নমূল ও নিম্নআয়ের মানুষ

দেখুন- নির্বাচনের জন্য কতটা প্রস্তুত চট্টগ্রাম জানালেন ডিসি

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন