নাটোরের গুরুদাসপুর থেকে উঠে আসা এক প্রতিভাবান কন্যা দেশের তিন শীর্ষ শিক্ষাঙ্গনে ভর্তির সুযোগ পেয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাজকিয়া জান্নাতী কথা একজন সংগ্রামী, একাগ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থী।
একসঙ্গে দেশের তিনটি মর্যাদাসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন নতুন প্রজন্মের রোল মডেল হিসেবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক অনুষদে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার সারথী।
তাজকিয়ার এ অসাধারণ অর্জন শুধু তাঁর একার নয়। এই সাফল্যে আজ গর্বিত তাঁর বাবা, মা, শিক্ষক, প্রতিবেশীসহ পুরো গুরুদাসপুরবাসী।
জানাযায়, তাজকিয়ার বাবা মোঃ আয়নাল হক একজন সাংবাদিক। দৈনিক আমাদের বসুন্ধরা পত্রিকায় নাটোর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মা মোছা. চম্পা খাতুন একজন গৃহিণী হলেও সে উচ্চ শিক্ষিত এবং তাজকিয়ার জীবনের প্রথম ও পরম শিক্ষাগুরু।
পরিবারের মানবিক মূল্যবোধ, পেশাগত নিষ্ঠা এবং সাংস্কৃতিক আবহই তাকে গড়ে তুলেছে দৃঢ়চেতা, মেধাবী ও সমাজবদ্ধ এক নারী হিসেবে। তাজকিয়া জান্নাতী কথা এবারের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইতিহাস ও সংস্কৃতি’ বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান।
তাঁর এ অর্জনে নারী দিবসে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ তাঁর হাতে সম্মাননা স্মারক আর ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, তাজকিয়ার মতো মেয়েরাই আমাদের সমাজের মুখ উজ্জ্বল করে। তারা শুধু নিজের নয়, গোটা প্রজন্মের অনুপ্রেরণা। আমার বিশ্বাস সে একদিন যোগ্য নাগরিক হয়ে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবে।
তাজকিয়া বলেন, আমি সবসময় বাবার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েছি। বাবার সততা আর মানুষের পাশে থাকার মনোভাব আমাকে জীবন চলার পথে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছে। আমার চাচ্চু রুবেল আহমেদ একজন বিসিএস কর্মকর্তা। তার দায়িত্ববোধ, সংগ্রাম আমাকে অভিভূত করে। আর বাবার বন্ধু, প্রকৌশলী আলী তারেক সাগর আঙ্কেল বুয়েট থেকে পাস করে দেশের কল্যাণে কাজ করছে। আমি তাদের মতো হতে চাই। আমি মানুষের পাশে থেকে দেশের জন্য কিছু করতে চাই।
এই খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ তাকে নতুন প্রজন্মের আলোকবর্তিকা হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। অভিভাবকরা তাঁর মতো সন্তান গড়ার স্বপ্ন দেখছেন, শিক্ষকরা অনুভব করছেন তাঁদের পরিশ্রম সার্থক হচ্ছে, আর সহপাঠীরা নতুন উদ্যমে এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা খুঁজে পাচ্ছেন।
তাঁর শিক্ষকরা জানান, তাজকিয়া সব সময় শান্ত, ভদ্র ও দায়িত্বশীল ছিলেন। ক্লাসে গভীর মনোযোগী, বিতর্কে অংশগ্রহণকারী, সহপাঠীদের সাহায্যকারী একজন আদর্শ শিক্ষার্থী হিসেবেই তিনি পরিচিত ছিলেন।
তাজকিয়া জান্নাতীর স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, তার এই যাত্রা শেষ নয়, বরং শুরু। তাঁর সাফল্য ভবিষ্যতের এক দীপ্ত পদক্ষেপ মাত্র। তাঁর স্বপ্ন যদি পাখা মেলে উড়তে পারে, তাহলে একদিন এই মেয়েটিই হয়তো আমাদের সমাজ, প্রশাসন কিংবা শিক্ষাক্ষেত্রের শীর্ষ আসনে বসে নতুনদের পথ দেখাবে।
একজন সাংবাদিকের কন্যা হিসেবে তাজকিয়ার অর্জন প্রমাণ করে—পরিবেশ, পরিবার ও অনুপ্রেরণা যদি সঠিকভাবে কাজ করে, তাহলে গ্রামগঞ্জ থেকেও আন্তর্জাতিক মানের প্রতিভা বেরিয়ে আসতে পারে।
এই অনন্য কন্যার জন্য গুরুদাসপুরের সকল সাংবাদিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়ে বলেন, এই গল্প আজ শুধু তাজকিয়ার নয়, এটি পুরো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি মেয়ের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার গল্প হয়ে থাকবে।
পড়ুন : নাটোরের প্রবীণ সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা নবীউর রহমান পিপলুকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন


