বাংলাদেশে যত বার যে সরকার আসছে, কোনো সরকার আদিবাসীদের অধিকার ও স্বীকৃতি দিতে চায়নি এবং দেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার। শনিবার (৯ আগস্ট) সকালে রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস-২০২৫ এর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ঊষাতন তালুকদার বলেছেন, অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ভাষণে যখন আদিবাসীদের কথা বলেছেন, তখন বাংলাদেশের অনেক জনগণ চেঁচিয়ে উঠেছে। তারা প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ ও ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছেন। প্রধান উপদেষ্টা যেন আদিবাসী বলাতে অপরাধ করে ফেলেছে, তেমনি আজকে আমরাও আদিবাসী হয়ে যেন অপরাধ করেছি। আমরা দেখেছি, বিগত সময়ে বাংলাদেশে যত বার যে সরকার আসছে, কোনো সরকার আদিবাসীদের অধিকার ও স্বীকৃতি দিতে চায়নি এবং দেয়নি।
ঊষাতন তালুকদার আরও বলেন, সরকার উদারতা পরিচ্ছন্ন মনে স্ব-ইচ্ছা নিয়ে এগিয়ে আসলে পার্বত্য সমস্যা দ্রুত সমাধান করে নেয়া যাবে। কিন্তু আমরা দেখি সারা বাংলাদেশে এক ধরণের শাসন ব্যবস্থা আর পার্বত্য অঞ্চলে আরেক ধরণের শাসন ব্যবস্থা। যার কারণে আজকে আমাদের চলাফেরার নিরাপত্তা নেই। শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত, নিপীড়ন শোষণের করুন ইতিহাস। কাজেই আমাদের অস্তিত্ব, আত্মপরিচয়, অধিকার ও পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে সংগ্রামে ও লড়াইয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এগ্রিয়ে আসতে হবে।
আলোচনা সভায় বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমার সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন- অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সদস্য ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরূপা দেওয়ান, শিক্ষাবিদ ও সংস্কৃতিকর্মী শিশির চাকমা, অ্যাডভোকেট ভবতোষ দেওয়ান, আদিবাসী দিবস উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইন্টুমনি তালুকদারসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।
সভায় বক্তারা বলেন, রাষ্ট্র আমাদের আদিবাসী স্বীকৃতি দিতে না চাইলেও জাতিসংঘ আমাদের আদিবাসী স্বীকৃতি দিয়েছে। আমাদের নিজস্ব ভাষা, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি থাকা শর্তেও আমাদের ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও উপজাতি বলা হচ্ছে। আমরা সাংবিধানিকভাবে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি চাই। সরকারকে আন্তরিক হয়ে এগ্রিয়ে আসতে হবে।
এদিকে আলোচনা সভার আগে বেলুন উড়িয়ে এবারের আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। পরে উদ্বোধন শেষে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর শিল্পীদের নৃত্য পরিবেশন করা হয়৷ পরে আলোচনা সভা শেষে দুপুরে রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণ হতে র্যালি শুরু হয়। র্যালিটি জেলা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সামনে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালিতে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, পাংখোয়াসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ ও শিশুরা নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে নিজেদের সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছেন।
পড়ুন: সাংবাদিক তুহিন হত্যায় জড়িতদের ফাঁসির দাবীতে বন্দর ও সোনারগাঁয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল
দেখুন: অতিরিক্ত গুরুত্ত্ব দেয়ায় মাতব্বরি করছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী |
ইম/


