জামালপুর পৌর শহরের জঙ্গলপাড়া বোর্ডঘর এলাকায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার (২৫ জানুয়ারী) রাতে স্থানীয় এক যুবকের বিরুদ্ধ কুরআন শরীফ অবমাননার অভিযোগ ওঠার পর বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে আটক করে।
অভিযুক্ত যুবক আকাশ (২০), পিতা আনার কানা, পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রির ছেলে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি তার পিতা-মাতাকে মারধর করেন এবং কুরআন শরীফ ছিঁড়ে বাথরুমে ফেলে দেন। এ ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কিছু লোক অভিযুক্তকে হত্যার হুমকি দেয় এবং এমনকি জীবন্ত কবর দেওয়ার মতো ভয়াবহ বক্তব্যও শোনা যায়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান পুলিশের সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াহিয়া আল মামুন, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানসহ পুলিশের একটি দল। পরিস্থিতির অবনতি বিবেচনায় সেনাবাহিনীর সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে যৌথ অভিযানে অভিযুক্ত যুবককে উদ্ধার করে নিরাপদ হেফাজতে নেওয়া হয়।
এ সময় জামালপুর সদর আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয়দের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ আরও জানায়, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং গণপিটুনি বা সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ধর্মীয় অনুভূতির প্রশ্নে সংবেদনশীলতা জরুরি হলেও বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে জনতার হাতে শাস্তি দেওয়ার প্রবণতা সমাজের জন্য ভয়াবহ হুমকি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আদালতই বিচার করবেন—আর অভিযোগ মিথ্যা হলে যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়, তার দায় কার—এ প্রশ্নও তুলছেন তারা।
এ ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
পড়ুন- ভেদরগঞ্জে সেনাবাহিনীর অভিযানে বিদেশি মদসহ ব্যবসায়ী গ্রেফতার


