রাজধানীর ধানমন্ডিতে নান্দনিক রঙ আর তুলির আঁচড়ে সেজেছে শফিউদ্দীন গ্যালারি। নতুন উদ্যোক্তা তৈরির মহৎ লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠাতা ওয়াহিদ করিমের প্রতিষ্ঠিত ‘ফেব্রিক পেইন্টিং আর্ট স্কুল’ আয়োজন করেছে ৪ দিনব্যাপী এক বিশেষ ফ্যাবরিক হ্যান্ডপেইন্ট এক্সিবিশন। গত ৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রদর্শনীতে ১৬ জন উদীয়মান শিক্ষার্থীর নিপুণ কারুকার্যে ফুটিয়ে তোলা মসলিন, সিল্ক ও সুতি শাড়ির এক বিশাল সমাহার নজর কাড়ছে দর্শনার্থীদের।
গত ৬ মার্চ সকালে এই প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বরেণ্য ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আয়োজক ওয়াহিদ করিমসহ শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। উদ্বোধন শেষে বিবি রাসেল প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং প্রতিটি শিল্পকর্মের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
আয়োজনের মূল কারিগর ও ফেব্রিক পেইন্টিং আর্ট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ওয়াহিদ করিম বলেন, “আমার মূল উদ্দেশ্য কেবল রঙ শেখানো নয়, বরং একঝাঁক আত্মনির্ভরশীল নারী উদ্যোক্তা তৈরি করা। এই ১৬ জন শিক্ষার্থী দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর পরিশ্রম করে তাদের সৃজনশীলতাকে কাপড়ের ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছে। এটি তাদের প্রথম সম্মিলিত প্রদর্শনী, যা তাদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে এবং ভবিষ্যতে পেশাদার উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করবে। আমরা চাই দেশীয় ঐতিহ্যকে আধুনিক আঙ্গিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিবি রাসেল বলেন, “হস্তশিল্প আমাদের দেশের মেরুদণ্ড। আমি এখানে এসে আনন্দিত যে, তরুণ প্রজন্ম মসলিন এবং জামদানির মতো ঐতিহ্যবাহী কাপড়ে হ্যান্ডপেইন্ট নিয়ে কাজ করছে। প্রতিটি কাজই অনন্য এবং এদের মধ্যে বিশ্বমানের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা দিলে তারা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারবে। বিশেষ করে মসলিন ও সিল্কের ওপর যে সূক্ষ্ম কাজ আমি দেখলাম, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”

প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে বৈচিত্র্যময় সব কাজ। মসলিনের স্বচ্ছতায় ফুলের বাগান, সিল্কের রাজকীয়তায় বিমূর্ত শিল্প আর সুতি শাড়িতে লোকজ মোটিফের ব্যবহার দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে। প্রদর্শনীর ১৬ জন শিক্ষার্থী তাদের নিজস্ব ঢঙে প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও জ্যামিতিক নকশাকে শাড়ির আঁচলে ফুটিয়ে তুলেছেন।
প্রদর্শনীতে আসা রাজিয়া সুলতানা নামে এক দর্শনার্থী জানান, “আমি এখানে এসে অবাক হয়েছি। হ্যান্ডপেইন্টের কাজ যে এতোটা ফিনিশড হতে পারে তা আগে ভাবিনি। বিশেষ করে মসলিনের শাড়িগুলো এক কথায় চমৎকার। নতুন এই মেয়েদের কাজ দেখে মনে হচ্ছে আমাদের দেশীয় ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে এক নতুন বিপ্লব আসতে যাচ্ছে।”
অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মতে, এই আয়োজন তাদের জন্য কেবল একটি প্রদর্শনী নয়, বরং একটি ব্যবসায়িক হাতেখড়ি। এখানে সরাসরি ক্রেতাদের সাথে কথা বলার সুযোগ পাওয়ায় তারা বুঝতে পারছেন বাজারের চাহিদা ও রুচি। অনেকেই ইতোমধ্যে তাদের পছন্দের শাড়িটি আগাম অর্ডার করে রেখেছেন।
প্রদর্শনীর সময়সূচী : ধানমন্ডি রোড-৪, বাড়ি নং-২১এ (ক্রিকেট একাডেমি মাঠের পাশে) অবস্থিত শফিউদ্দীন গ্যালারিতে এই প্রদর্শনী চলবে আজ ৯ই মার্চ রাত ১০টা পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজন সব বয়সী দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
ফ্যাবরিক পেইন্টিং আর্ট স্কুলের এই উদ্যোগটি তরুণদের কর্মসংস্থান এবং দেশীয় শিল্পের প্রসারে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পড়ুন : http://অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘মায়ের ডাক’-এর মহরত অনুষ্ঠিত


