২৮/০২/২০২৬, ২৩:০৯ অপরাহ্ণ
22.6 C
Dhaka
২৮/০২/২০২৬, ২৩:০৯ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

ধামরাইয়ে বংশী নদী থেকে মাটি উত্তোলন করে বিক্রি, এমপির নাম ভাঙিয়ে ব্যবসা

ঢাকার ধামরাইয়ে বংশী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করছেন স্থানীয় এক বিএনপি নেতা। উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের গোমগ্রাম এলাকায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নবিউল্লাহ মাটি কাটার এক্সকেভেটর (ভেকু) ব্যবহার করে নদীর তলদেশ থেকে এই মাটি কেটে রাস্তার কাজ পাওয়া এক ঠিকাদারির কাছে বিক্রি করছেন ।

অভিযুক্ত নবিউল্লাহ দাবি করেছেন, তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব তমিজ উদ্দিনের অনুমতি নিয়েই নদী থেকে মাটি উত্তোলন করছেন। তবে এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব তমিজ উদ্দিন কোনো ধরনের অনুমতি প্রদান করেছেন এমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, এমপি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। অভিযোগ রয়েছে, এমপির নাম ভাঙিয়ে অবৈধভাবে নদী থেকে মাটি উত্তোলন ও বিক্রি করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নদী রাষ্ট্রের সম্পদ এবং তা জনস্বার্থে সংরক্ষিত। নদীর তলদেশ থেকে মাটি বা বালু উত্তোলনের ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং নির্ধারিত ইজারা প্রক্রিয়া অনুসরণ বাধ্যতামূলক। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এবং বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুসারে অনুমোদনবিহীনভাবে নদী থেকে মাটি উত্তোলন দণ্ডনীয় অপরাধ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এমপি তমিজ উদ্দিন প্রকাশ্যে নদী দখল ও অবৈধ মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন। তা সত্ত্বেও তাঁর নাম ব্যবহার করে নদী থেকে নিয়মিতভাবে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধভাবে নদীর তলদেশ থেকে মাটি কাটার ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিবে।

স্থানীয় মিজানুর রহান জানান, নদী থেকে মাটি কাটা আসলে ঠিক না। এটা যা করছে সম্পূর্ণ অন্যায় করছে। আমরা তো আসলে বাঁধা বা কিছু বলতে পারব না। প্রশাসন যদি একটু বিষয়টি নজরে নেয় তাহলে সব থেকে ভালো হতো এবং নদীর মাটি কাটা বন্ধ হতো।

এবিষয়ে অভিযুক্ত যাদবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নবিউল্লাহ জানান, নদীর মাটি দিয়ে রাস্তার কাজ করা হচ্ছে। এমপি সাব বলছেন যে সরকারি মাটি সরকারি কাজে ব্যবহার করলে কোন সমস্যা নেই। নদীর মাটি সরকারি রাস্তায় নেয়া যাবে।

বিষয়টি নিশ্চিত হতে ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব তমিজ উদ্দিন কে মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি রিসিভ না করে কল কেটে দেন।

তবে একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে স্থানীয় সংসদ সদস্য এই নদীর মাটি কাটার বিষয়ে কিছুই জানেন না। তার নাম ভাঙ্গিয়ে নদীর মাটি কাটা হচ্ছে। তমিজ উদ্দিন এবিষয়ে অবগত হলে অবশ্যই ওই সভাপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবীব জানিয়েছেন, ধামরাইয়ে অবৈধভাবে কেউ মাটি কাটলে তাকে এখন আর কোন জরিমানা করা হবে না। তাকে সোজা জেলে দেয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : পাথরঘাটায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি দখল দিয়ে দিচ্ছে কার্য-সহকারি মামুন

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন