২৭/০২/২০২৬, ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ
25.1 C
Dhaka
২৭/০২/২০২৬, ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

নওগাঁর যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদন্ড

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে (৫০) মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ে আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) দুপুরে নওগাঁর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আস্সামছ জগলুল হোসেন এ রায় দেন।

রায় ঘোষণার সময় ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামি মোস্তাফিজুর রহমান আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০০৭ সালে নওগাঁর মান্দা উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের আনিছুর রহমানের মেয়ে রাণী বেগমের সঙ্গে নিয়ামতপুর উপজেলার হরিপুর গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় মোস্তাফিজুরকে যৌতুক হিসেবে নগদ ৪০ হাজার টাকা, একটি ভ্যানগাড়ী ও একটি সেলাই মেশিন টাকা দেওয়া হয়। বিয়ের কয়েক মাস যেতে না যেতেই মোস্তাফিজুর তার স্ত্রী রাণী বেগমকে তার বাবার বাড়ি আরও যৌতুক হিসেবে ৫০ হাজার টাকা আনার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। বাবার বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা আনতে না পারায় রাণী বেগমকে নির্যাতন করতেন মোস্তাফিজুর। যৌতুকের দাবিতে পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে ২০১৫ সালের ১০ আগস্ট রাতে মোস্তাফিজুর তার স্ত্রী রাণী বেগমকে কাঠের খ্যাটা (হাতুড়ি) দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন। এ ঘটনার পর দিন রাণী বেগমের বাবা বাদী হয়ে নিয়ামতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা তদন্ত করে নিয়ামতপুর থানার সেই সময়ের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম ২০১৬ সালের ১৮ অক্টোবর মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার নথি, ১৬ জন সাক্ষীর জেরা ও জবানবন্দি পর্যালোচনা শেষে আসামী মোস্তাফিজুরের বিরদ্ধে স্ত্রী রাণী বেগমকে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাকে ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নওগাঁর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর সরকারি কৌসুলি (পিপি) ইকবাল জামিন চৌধুরী এবং আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী আতিকুর রহমান।

এ রায়ের বিষয়ে সরকারি কৌসুলি ইকবাল জামিল চৌধুরী বলেন, আদালতের এ রায় যুগান্তকারী। এর ফলে সমাজে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যা ও নির্যাতনে প্রবণতা কমে যাবে। এ রায় দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও সমাজে শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়ক হবে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী এ রায়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

পড়ুন: চলতি মাসেও চালু হচ্ছে না জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ফুডকোর্ট

দেখুন: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি থাকবে কি

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন