29.4 C
Dhaka
০৫/০৩/২০২৬, ১৮:০২ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

নকল রোধে সংশোধন হচ্ছে পাবলিক পরীক্ষা আইন

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় নকলের ধরন বদলে এখন ডিজিটাল মাধ্যমে অনিয়ম বাড়ছে। স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন, অনলাইনে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি– এসব নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকার।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০ (সংশোধিত ১৯৯২)-তে ডিজিটাল জালিয়াতি বা অনলাইনভিত্তিক প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান না থাকায় অপরাধীরা অনেক ক্ষেত্রেই শাস্তি এড়িয়ে যাচ্ছে। এ বাস্তবতায় আইনটি যুগোপযোগী করতে সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংশোধনের লক্ষ্য
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও অবহিত করা হয়েছে। সব ঠিক থাকলে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার আগেই সংশোধিত আইন কার্যকর হতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আগে কাগজে লেখা নকল ছিল বেশি। এখন ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে নকল, প্রশ্ন ফাঁস ও অনলাইনভিত্তিক জালিয়াতি বেড়েছে। এসব ঠেকাতে শক্ত আইন ও কঠোর শাস্তির বিকল্প নেই।’ তিনি জানান, সংশোধিত আইনে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের জন্য পৃথক ও কড়াকড়ি শাস্তির বিধান যুক্ত করা হবে।

মামলা হলেও শাস্তি নগণ্য
দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা-সংক্রান্ত ঘটনায় পাবলিক পরীক্ষা আইন, আইসিটি আইন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ২০০টি মামলা করা হয়। এর মধ্যে মাত্র ৪৫টির নিষ্পত্তি হয়েছে; সাজা হয়েছে কেবল একটিতে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেন, বর্তমান আইনের পরিধি অত্যন্ত সীমিত। নতুন অপরাধ যুক্ত হওয়ায় আইনের ব্যাপ্তি বাড়ানো জরুরি। তা না হলে অপরাধীরা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাবে।

সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে পরীক্ষার্থীদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার ঘটনাও বেড়েছে। সংশোধিত আইনে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত
দীর্ঘ আইনি জটিলতা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে আগামী এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রাথমিকের স্থগিত বৃত্তি পরীক্ষা। সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিলের মধ্যে চার দিনে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। কোনো সংক্ষিপ্ত সিলেবাস নয়; পঞ্চম শ্রেণির পূর্ণ সিলেবাস এবং গত বছরের পাঠ্যবই অনুসারেই পাঁচ বিষয়ে ৪০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হবে। জুনের মধ্যেই ফল প্রকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে মোট ৩০০ নম্বর এবং বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ে ৫০ নম্বর করে ১০০ নম্বর– সব মিলিয়ে ৪০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে।
ডিপিইর মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান জানান, সময় খুব সীমিত। এপ্রিলের প্রথমার্ধে এবং এইচএসসি পরীক্ষার আগে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হলে কেন্দ্র সংকট এড়ানো যাবে। এটি মেধা যাচাইয়ের পরীক্ষা। তাই নম্বর বা বিষয় কমানোর সুযোগ নেই।

বৃত্তি পাবে ৮২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী মোট ৮২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে। এর মধ্যে ৩৩ হাজার ট্যালেন্টপুল এবং ৪৯ হাজার ৫০০ সাধারণ বৃত্তি। মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং ২০ শতাংশ বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

ঈদ বোনাস বাড়ছে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বর্তমানে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে ঈদ বোনাস পাচ্ছেন। নতুন সরকার এ বোনাস ১০ শতাংশ বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করার উদ্যোগ নিয়েছে, যা বাস্তবায়নে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কাছে প্রস্তাব চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 
 

পড়ুন:‘মধ্যপ্রাচ্যে ১৯তম ধাপের হামলা শুরু, নিশানা ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি’

দেখুন:ঝিনাইদহে দুই সন্তানের জননীকে গলা কে/টে হ/ত্যা/র চেষ্টা, স্বামী আটক

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন