১৪/০১/২০২৬, ১৭:৩৮ অপরাহ্ণ
25 C
Dhaka
১৪/০১/২০২৬, ১৭:৩৮ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

নতুন ৮ দাবিতে পার্বত্য অঞ্চলের তিন জেলাতেই অবরোধের ঘোষণা

খাগড়াছড়িতে চলমান অবরোধ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে পার্বত্য অঞ্চলের বাকি দুই জেলা রাঙামাটি ও বান্দরবানকে। এবার তিন পার্বত্য জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে জুম্ম ছাত্র-জনতা ফ্রন্ট।

এ ফ্রন্টের ব্যানারে তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তিন জেলায় অবরোধের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। তবে এটিতে স্বাক্ষর নেই কোনও ছাত্র নেতার।

শুধু অবরোধের আওতা বাড়েনি, নতুন বিজ্ঞপ্তিতে বাড়ানো হয়েছে দাবির সংখ্যাও। এর আগে একটি ধর্ষণ সংক্রান্ত অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করলেও অবরোধ পালনকারী জুম্ম ছাত্র-জনতা ফ্রন্ট এবার সেখান থেকে সরে এসে আট দফা দাবি উপস্থাপন করেছে।

দাবিগুলো হলো-

১। আলোচনার প্রারম্ভকাল থেকে পরবর্তী সময়ে পর্যন্ত যেকোনও প্রকার হামলা, সহিংসতা বা ভীতি প্রদর্শন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনিভাবে বাধ্য থাকবে এবং সেই নিশ্চয়তা প্রদান করবে।

২। ধর্ষণ মামলার অবশিষ্ট দুই আসামিকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে যথাযথ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োগ করতে হবে। ইতিমধ্যে গ্রেফতার আসামি চয়ন শীলের বিচার ত্বরান্বিত করে দণ্ড কার্যকর করা ও তা সরকারি গেজেটে বিজ্ঞাপন করে প্রকাশ করতে হবে। ভুক্তভোগীকে পর্যাপ্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।

৩। ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় ঘটে যাওয়া সেনা-ও-সেটলারদের দ্বারা লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও গুলিবর্ষণের ঘটনাসহ সমস্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ সংবেদনশীল আইনি তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। এই বিষয়ে একটি অফিসিয়াল তদন্ত প্রতিবেদন আমাদেরকে ৩০ দিনের মধ্যে প্রদান করতে হবে।

৪। নিরীহ ও নিরস্ত্র জুম্ম ছাত্র-জনতার ওপর সংঘটিত বর্বরোচিত হামলা, দোকানপাট ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগে সৃষ্ট ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আহত সবার সুচিকিৎসার দায়ভার জেলা/রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ বহন করবে।

৫। শান্তিপূর্ণ অবরোধ ক্ষুণ্ন করা, সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় বিনা উসকানিতে আক্রমণ এবং জুম্ম আদিবাসীদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত করা হলে সে সবের পূর্ণ ক্ষতিপূরণ ও ন্যায়সঙ্গত প্রতিকার দিতে হবে।

৬। চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে আটক সব জুম্ম ছাত্র-জনতাকে অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। একইসঙ্গে ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর সংঘটিত হামলাসমূহের স্বতন্ত্র, স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৭। আলোচনার টেবিলে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি ছাত্র-জনতা প্রতিনিধির এবং অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

৮। ১৪৪ ধারা বাতিল করতে হবে।

উপরোক্ত দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে তারা আরও কঠোর এবং সুসংগঠিত আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জুম্ম ছাত্র ফ্রন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গত শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) থেকে খাগড়াছড়িতে তারা শান্তিপূর্ণ অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ সততার সঙ্গে পালন করে আসছিল। কিন্তু গত কয়েকদিনে খাগড়াছড়ি শহরজুড়ে সেনাবাহিনীর ব্যাপক তল্লাশি, মারধর ও ধারপাকড়ের ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে- যা কখনও গ্রহণযোগ্য নয়। তদুপরি গুইমারায় জুম্ম ছাত্র-জনতার ওপর সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণ এবং সেটলারদের দ্বারা দোকানপাট ও বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের নির্মম প্রতিবেদন এসেছে।

সেনা ও সেটলারদের হামলায় ‘চার জন নিহত’ এবং বহু জন আহত হয়েছেন দাবি করে এই বর্বরতা ও ন্যায়বিচারের অনুপস্থিতির কঠোরভাবে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন অবরোধকারীরা। তারা প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, তাদের বোনের প্রতি হওয়া ন্যায়হীনতা, সাম্প্রদায়িক উৎপাত, সেনাবাহিনীর গুলিতে হত্যা অথবা সেটলারদের নির্মমতাগুলো সুস্থ বিচার না হওয়া পর্যন্ত লড়াই জারি রাখবেন এবং তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তিন পার্বত্য জেলায় তাদের সড়ক অবরোধ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হলো এবং সব পর্যটন কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ থাকবে।

১৪৪ ধারা বলবৎ

এদিকে খাগড়াছড়ি জেলার দুই উপজেলায় (সদর ও গুইমারা) জারি করা ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার হয়নি। ফলে দোকানপাট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ আছে। অনেক বিসিএস পরীক্ষার্থী, যাদের ঢাকায় ভাইভা পরীক্ষা চলছে তারাসহ অনেক পর্যটক খাগড়াছড়িতে আটকে আছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যস্ত থাকলেও ভুক্তভোগীদের জন্য কোনও পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : প্রতিবেশী দেশ ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের ইন্ধনে খাগড়াছড়িতে অস্থিরতা হচ্ছে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন