নিয়োগ মানেই ঘুষ আর তদবির—বছরের পর বছর এই চিত্র ছিল অনেক চাকরিপ্রার্থীর কাছে ভয়াবহ বাস্তবতা। তবে নরসিংদীতে এবার এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন পুলিশ সুপার (এসপি) আব্দুল হান্নান। তাঁর উদ্যোগে বদলে গেছে পুলিশে নিয়োগ প্রক্রিয়ার চিরচেনা চিত্র। মাত্র ১২০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট খরচেই চাকরি পেয়েছেন নতুন প্রজন্মের ২৩ জন তরুণ। কোনো ঘুষ বা রাজনৈতিক তদবির ছাড়াই নিয়োগপ্রাপ্তরা এই সফলতা অর্জন করেছেন তারা। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চাকরিপ্রার্থীদের স্বজনরা ছিল আনন্দে উচ্ছ্বসিত।
এপ্রিল এর ১৯ থেকে ২১ তারিখ পর্যন্ত চলে আবেদন পক্রিয়া। ৭২৮জন চাকরী প্রত্যাসীদের মাঝে, সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও মেধা-ভিত্তিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষা শেষে বৃহস্পতিবার (২৯ মে) উত্তীর্ণদের ফলাফল ঘোষণা করেন পুলিশ সুপার আব্দুল হান্নান। এসময় উত্তীর্ণদের মাঝে অনেকে আনন্দে কেদে ফেলেন, কেউ মাটিতে সেজদা দিয়ে আল্লাহ কাছে প্রার্থনা করেন।
চাকুরী পাওয়া সানজিদার মা মাজেদা বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমাদের খুব দরিদ্র পরিবার। মেয়ে বলতো, পুলিশ হবে কিন্তু চিন্তা করতাম এটা সম্ভব নয়। কারণ আমরা গরীব। এতো এতো টা ঘুষ কোথায় পাবো। তবে ১২০ টাকায় আমার মেয়ে চাকরি হলো আমি এখনও বিশ্বাসই করতে পারছিনা। আজ যা দেখলাম চোখের সামনে আল্লাহ যানে ভিতরে কত শান্তি লাগছে আনন্দ হচ্ছে। নরসিংদীর প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা অন্য তরুণ-তরুণী নিজেদের তৈরি করেছেন সীমিত সামর্থ্যে।
তারা বিশ্বাস করতেন, একদিন স্বপ্ন ধরা দেবেই। আজ আমার মেয়ের মতো তাদের হাতেও পুলিশের নিয়োগপত্র একটি আত্মবিশ্বাস, একটি পরিচয়, একটি সম্মান চাকরির পেয়েছেন আবেগ আপ্লুত হয়ে সদ্য কনস্টেবল এর নিয়োগপ্রাপ্তরা বলেন, ঘাম ঝরানো স্বপ্ন আর একটি নিষ্পাপ বিশ্বাসের জয় হলো আমাদের। ১২০ টাকায় চাকরির শুধুই স্বপ্ন মনে হতো। সেটা পূরণ হবে সেটা কল্পনাও ছিলনা। পরিবারে সবাই অনেক খুশি হবে। এতো দিনের পরিশ্রম সার্থক। যখন মানুষ পুলিশের নিয়োগ মানেই ঘুষ, দালাল, দুর্নীতি ভাবেঠিক তখনই নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল হান্নান স্যার গড়েছেন এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। স্যার দেখিয়ে দিয়েছেন, পুলিশ মানে ঘুষ নয়, পুলিশ মানে ন্যায়। আজ নরসিংদীতে শুধু চাকরি হয়নি, হয়েছে বিশ্বাসের পুনর্জন্ম। এই নিয়োগ শুধু ২৩ জনের জীবনের গল্প নয়। এটি বাংলাদেশের সম্ভাবনার গল্প। যেখানে একজন পুলিশ সুপার ঘুষমুক্ত, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ সম্পন্ন করেন, সেখানে জাতি আশা করতে পারেসত্য এখনো বেঁচে আছে।
নরসিংদী পুলিশ সুপার আব্দুল হান্নান বলেন, “আমরা চাই সৎ, যোগ্য এবং দেশপ্রেমিক তরুণরা পুলিশে আসুক। স্বচ্ছ প্রক্রিয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। তারাই আগামী পুলিশের অহংকার হবে। পুলিশের চাকুরির ক্ষেত্রে ১০০% সচ্ছলতা নিশ্চিত করাই আমার দ্বায়িত্ব ছিল। এ ধারাবাহিকতায় আমাদের আগামী কার্যক্রম গুলো চলবে।
পড়ুন: নীলফামারী জেলায় সেনাবাহিনীর টহল জোরদার
দেখুন: পিটার হাসের নিরাপত্তার প্রশ্নে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী
ইম/


