নরসিংদীতে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় চরম অব্যবস্থাপনার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন উপস্থিত সাংবাদিকরা। এছাড়া নরসিংদী সদরের চারটি নৌকার নাম প্রতিযোগিতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করায় অংশগ্রহণকারীরা মঞ্চের সামনে বিক্ষোভ করেন। পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের নাম অন্তর্ভুক্তির আশ্বাস দেওয়া হয়।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে নরসিংদী শহরের নাগরিকান্দী মেঘনা সেতু এলাকার মেঘনা নদীতে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন। এসময় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকরা জানান, প্রতিযোগিতা শুরুর আগেই অনুষ্ঠানস্থলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় এবং অংশগ্রহণকারী কয়েকটি দল বিক্ষোভ শুরু করে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত আসন, পরিচয়পত্র কিংবা নিরাপত্তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা ছিল না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সংবাদকর্মীদের নৌকা বাইচের চিত্র ধারণের জন্য বরাদ্দ নৌকার ব্যবস্থাপনায়ও চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
ফলে সংবাদকর্মীরা কাজ করতে গিয়ে নানা ভোগান্তির শিকার হন। একপর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অবগত করার পর কোন ব্যবস্থা নেয়নি তারা। পরে ক্ষোভে অনুষ্ঠান বর্জন করে স্থান ত্যাগ করেন সাংবাদিকরা। পরে তারা অভিযোগ করেন, “জেলা প্রশাসনের এই অব্যবস্থাপনা শুধু পেশাদার সাংবাদিকদের প্রতি অবমাননাকরই নয়, বরং প্রশাসনিক সমন্বয়ের চরম ব্যর্থতা।”
এদিকে, নৌকা বাইচ দেখতে নদীর তীরে বিপুল সংখ্যক দর্শক সমবেত হয়। তবে অনুষ্ঠান চলাকালে চরাঞ্চলের সঙ্গে দুইটি ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়, যার ফলে নরসিংদী শহর থেকে নজরপুর ও করিমপুরগামী সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বরতরা বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “মানুষের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, আমরা তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছি।” তবে সংবাদকর্মীদের অনুষ্ঠান ত্যাগের ঘটনাকে তিনি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।
পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২০০ প্রতিবন্ধী উপহার পেল সৈয়দ তৈমুর ফাউন্ডেশনের ছাতা
দেখুন: কেমন ছিলো বাংলাদেশের ১২টি জাতীয় নির্বাচন?
ইম/


