নর্থ মেসিডোনিয়ার কোচানি শহরের পালস ক্লাবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ১৫২ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশ কিছু গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন। রোববার স্থানীয় সময় ভোর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যখন সেখানে জনপ্রিয় হিপ-হপ ব্যান্ড ডিএনকে’র কনসার্ট চলছিল।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের পর দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় প্রায় ৫০০ জন কনসার্টে উপস্থিত ছিলেন এবং অনেকেই বের হয়ে যেতে পারেননি। আগুনের সূত্রপাত হয় আতশবাজি থেকে, যা ক্লাবটির ছাদে লাগেছিল এবং অতিরিক্ত দাহ্য পদার্থের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ব্যাপক ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছিল এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য পর্যাপ্ত বের হওয়ার পথ ছিল না। একটি মাত্র দরজা কার্যকরী ছিল, আর পেছনের দরজা ছিল তালাবদ্ধ।
নিহতদের মধ্যে পাঁচটি শিশু এবং দুইটি নারীও রয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেককে উন্নত চিকিৎসার জন্য বুলগেরিয়া, গ্রিস, সার্বিয়া এবং তুরস্কে পাঠানো হয়েছে। কিছু গুরুতর আহত ব্যক্তিদের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। দেশটির প্রেসিডেন্ট গোর্দানা সিলিয়ানভস্কা-দাভকোভা জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১০ জনকে আটক করা হয়েছে, যার মধ্যে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও রয়েছেন, যারা নাইটক্লাবটির অনুমোদন দিয়েছিলেন।

এদিকে, নর্থ মেসিডোনিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পানচে তস্কোভস্কি জানান,
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, কনসার্ট চলাকালে পটকা জাতীয় আতশবাজি ব্যবহার করা হয়েছিল, যা ছাদের উপরে লাগেছিল এবং দ্রুত আগুনের সূত্রপাত ঘটায়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির ভিডিওতে দেখা গেছে, পারফরম্যান্স চলাকালে আতশবাজি আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সে সময় অনেক দর্শক আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এ ঘটনায় তদন্তে নেমেছে পুলিশ। দেশটির সরকারি কৌঁসুলির দপ্তরের মুখপাত্র বিলজানা আরসোভস্কা জানিয়েছেন, নাইটক্লাবটির কার্যক্রম চালানোর কোনো বৈধ লাইসেন্স ছিল না এবং ক্লাবটি একটি পুরোনো গুদামঘর রূপান্তরিত করে ব্যবহার করা হচ্ছিল। বিশেষ করে, সেখানে জরুরি পরিস্থিতির জন্য কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এদিকে, সরকার সাত দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী হ্রিস্তিজান মিকোস্কি ঘটনার তদন্তে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট গোর্দানা সিলিয়ানভস্কা-দাভকোভা বলেছেন, ‘কোনো ব্যবসা বা কার্যক্রম মানদণ্ড ও নিয়মকানুনের বাইরে পরিচালিত হতে পারে না। নিরীহ মানুষের জীবন যেন আর ঝুঁকিতে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে।’
এ ঘটনার পর, নর্থ মেসিডোনিয়া সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহানুভূতি জানানো হয়েছে এবং সরকারের তরফ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারও এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা দেশটিতে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে এবং নিরাপত্তা ও নিয়ম-কানুনের বিষয়ে আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
পড়ুন: পটুয়াখালীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচটি ঘর ও দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই
দেখুন: নর্থ সাউথের একটি মেয়েকে তপু এক পায়ে নুপুর পরতে দেখতেন ।
ইম/


