“মা জানেন না সন্তান কেমন, সন্তান দেখে না মায়ের মুখ!”—মানবিক এই বাস্তবতা আলোচনায় আসে নাগরিক টেলিভিশন ডিজিটাল মিডিয়ায় প্রতিবেদন প্রচারের পর। ঠিক সেই সংবাদেই সাড়া দিয়ে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আব্দুস সালাম এগিয়ে এলেন অন্ধ পারেছা খাতুনের অসহায় পরিবারটির পাশে।
শনিবার দুপুরে তিনি নিজেই ছুটে যান গাংনী উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের দিনমজুর শাহিনের বাড়িতে। জন্মগতভাবে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পারেছা খাতুন ও তার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন জেলা প্রশাসক। এরপর তাদের হাতে তুলে দেন খাদ্যসামগ্রী, শীতবস্ত্র ও নগদ আর্থিক অনুদান। শুধু এককালীন সহায়তা নয়—পরিবারটির পাশে দীর্ঘমেয়াদে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে আশ্বাস দেন তিনি।
জানা যায়, গত ১১ নভেম্বর নাগরিক টেলিভিশন ডিজিটাল মিডিয়ায় প্রচারিত সংবাদে উঠে আসে পারিছা খাতুনের হৃদয়বিদারক জীবনসংগ্রাম। অন্ধত্ব নিয়েও রান্নাবান্না থেকে শুরু করে সন্তানদের গোসল, খাওয়ানো—সব কাজই তিনি নিজ হাতে করে থাকেন। তার স্বামী শাহিন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। ফলে সংসার টেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
তাদের দুই ছেলে—পারভেজ (১০) ও হামিম (৭)—দু’জনই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। বহুবার আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতা নিয়ে চিকিৎসা করালেও কোনও উন্নতি হয়নি। তবুও সন্তানদের সুস্থ চোখের আলো ফিরে পাওয়ার আশা ছাড়েননি পারেছা খাতুন।
জেলা প্রশাসকের সফরে সঙ্গে ছিলেন গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আনোয়ার হোসেন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ তৌহিদুল কবীর।
পরিবারটির দুঃখগাঁথা শুনে গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেন বিদায়ী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম। একইসঙ্গে পরিবারটিকে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার আওতায় আনার জন্য গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
মানবিক উদ্যোগের এ দৃষ্টান্ত ভবানীপুরের অসহায় পরিবারটিকে যেমন নতুন আশার আলো দেখিয়েছে, তেমনি প্রশাসনের পক্ষ থেকে দরিদ্র মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার বাস্তব উদাহরণ হয়ে রইল।
পড়ুন- সুনামগঞ্জে ৯৫০ রাউন্ড শর্টগান কার্তুজ উদ্ধার, দুইজন গ্রেফতার
দেখুন- গণভোট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়িা , ৪ প্রশ্নে বিভ্রান্ত অনেকে


