নারায়নগঞ্জ থেকে অপহৃত ব্যবসায়ী মিম শরৎ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সোহাগ (৪৫)কে হাত পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় পটুয়াখালী সদর উপজেলার পায়রাকুঞ্জ ফেরীঘাট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে তাকে তার ব্যবহৃত গাড়িতে হাত পা বাধা অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দিলে সদর থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। তার শরীরে ইলেকট্রিক সখ ও মারধর করায় গুরুত্বর আহত অবস্থায় তাৎক্ষনিকভাবে তাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এসময় পুলিশ দুইটি গাড়ী উদ্ধার করেছে। তবে ড্রাইভারসহ অপহরনকারীরা পালিয়ে গেছে। উদ্ধার হওয়া এই ব্যবসায়ীর নারায়ণগঞ্জের নিউ চাষারা ৮৯নং জামতলা এলাকার মৃত আব্দুস সালাম ও মোসাঃ রহিমা বেগম দম্পতির ছেলে।
অপহৃত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোহাগ জানান, তিনি নারায়নগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্টিজ এর একজন পরিচালক পদে আছেন। গতকাল রবিবার রাত ৯ টার দিকে তিনি তার নিতাইগঞ্জের অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে তার গাড়িটি তুলারাম কলেজ গেটের সামনে আসলে ৫/৬ জনের একদল সন্ত্রাসী তার গাড়ির গতি রোদ করে গাড়ীতে উঠেই তার হাত পা ও চোখ বেধে ফেলে। এসময় তাকে মারধরও করা হয়।
ব্যবসায়ী সোহাগ আরো জানান, মারধর করার পর তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ইলেকট্রিক সখ দিলে তিনি অজ্ঞান হয়ে পরেন। এর পর তিনি দুপুরের দিকে জ্ঞান ফেরার পর পটুয়াখালীর পায়রাকুঞ্জের ফেরীঘাটে লোকজনকে ইশরার করেন তাকে উদ্ধার করার জন্য। পরে লোকজন এসে পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পুলিশ জানায়, সকালে অপহরণকারীরা ব্যবসায়ী সোহাগ মিয়াকে পটুয়াখালীর পায়রাকুঞ্জ ফেরীঘাটে নির্মাণাধীন সেতুর বালির মাঠে গাড়িসহ ফেলে রেখে অন্য একটি গাড়ীতে অপহরনকারীরা পালিয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় লোকজন দুপুর ১ টার দিকে দুটি গাড়ী অনেক সময় পড়ে থাকতে দেখে গাড়ীর পাশে গিয়ে দেখতে পান গাড়ির মধ্যে হাত পা ও মুখ বাধা অবস্থায় এক লোক তাদের সাহায্য চাইলে তারা থানা পুলিশকে খবর দিলে ডিবি, সদর থানা ও নৌ পুলিশ তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এঘটনায় নারায়ণগঞ্জ পুলিশের সাথে পটুয়াখালী পুলিশ যোগাযোগ করলে নারায়ণগঞ্জ পুলিশের একটি দল তার স্ত্রীসহ সন্ধ্যা ৬টার দিকে হেলিকপ্টার যোগে পটুয়াখালীতে পৌছে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্যবসায়ী সোহাগকে ঢাকার উদ্দেশ্যে নিয়ে গেছেন।
পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপারেশন) মো. সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, দুপুরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়ীতে থাকা নারায়নগঞ্জের ব্যবসায়ী মো. সোহাগকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারের পর তাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসনপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে নারায়নগঞ্জ পুলিশের একটি দল ও তার স্ত্রী তানিয়া আক্তার হেলিকপ্টার নিয়ে এসে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে গেছেন।
তিনি আরও জানান, সোহাগের ড্রাইভার এর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে অপহরণের সাথে তার ড্রাইভারের যোগসাজস থাকতে পারে। আমাদের এখানে একটি সাধারন ডায়েরী করা হয়েছে। যেহেতু ঘটনাস্থল নারায়নগঞ্জ এবং ওই ব্যবসায়ী একই স্থানের তাই সেখানের পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করবে।
পড়ুন: বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা ১৪৩২ কে বরণ করেছে পটুয়াখালীবাসী
দেখুন: বেহাল পটুয়াখালীর বাস টার্মিনাল, ভোগান্তিতে যাত্রী
এস


