শিক্ষাজীবন শেষে নার্স ও মিডওয়াইফারিদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে ‘জব ফেয়ার’ বা চাকরি মেলার আয়োজন করেছে নার্সিং ইনস্টিটিউট। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাঙামাটি নার্সিং ইনস্টিটিউটের হল রুমে দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন অ্যাসেট প্রকল্পের আওতায় এ মেলার আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি।
অনুষ্ঠানে রাঙামাটি নার্সিং ইনস্টিটিউটের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জ সীমা মন্ডলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন- নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর মো. শাহিন রেজা, এফপিএবি রাঙামাটির প্রেসিডেন্ট সাহিদা আক্তার, রাউজানের জে.কে. মেমোরিয়াল হসপিটালের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (এইচ আর অ্যান্ড এডমিন) বাশিরুল ইসলাম, রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের উপ-সেবা তত্ত্বাবধায়ক দীপ্তি চৌধুরী।
রাঙামাটি নার্সিং ইনস্টিটিউটের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর চঞ্চলা চাকমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) গ্রীন হিলের প্রকল্প পরিচালক মাইলু মং মারমা। এসময় নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও মেলায় আসা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় আলোচনা সভা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা বলেন, ‘জব ফেয়ার’ হলো এক ধরণের প্ল্যাটফর্ম। যেখানে সুনির্দিষ্ট কোনো জবের ক্ষেত্রে যারা নিয়োগ কর্তা, নিয়োগদাতা তাদের মধ্যে একটা প্লাটফর্ম তৈরি করা। এটা খুবই চমৎকার উদ্যোগ। এজন্য জব ফেয়ারকে অনেক সময় বলা হয় ক্যারিয়ার এক্সপোর্ট। কাজেই এই জব ফেয়ার খুবই চমৎকার একটা প্ল্যাটফর্ম, যা কাজের সুযোগ তৈরি করে।
সিভিল সার্জন আরও বলেন, ‘বিদেশে জব ফেয়ারের ধারণাগুলো অনেক আগেই চলে আসছে। স্বস্তির বিষয়গুলো আমাদের দেশেও এটা শুরু হয়েছে। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানও দক্ষ জনবল পাবেন। চাকরি প্রার্থীদেরও লবিং করে নিয়োগ নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।’
বিশেষ অতিথি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর মো. শাহিন রেজা বলেন, ‘প্রতি বছরে নতুন করে ৪০ হাজার নার্স ও মিডওয়াইফারি আসছে। আমাদের সরকারিভাবে শূন্য পদ প্রায় ১ হাজার। এছাড়া বেসরকারিভাবে এমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি, যাতে করে এমন চাকরি মিলবে। আমাদের একটি প্রকল্পের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের সঙ্গে জাপানের ৫টি সেক্টর নিয়ে চুক্তি হয়েছে। এরমধ্যে একটি হলো নার্সিং। স্বাস্থ্যখাতের জন্য একটি পিপিপি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এ প্রজেক্টের মাধ্যমে নার্সরা কীভাবে খুব সহজে দেশের বাহিরে যেতে পারবেন; এসব বিষয়ে অগ্রসর হওয়া যাবে। আশা করি প্রকল্পটি চালু হলে ভালো সফলতা আসবে।’
এফপিএবি রাঙামাটির প্রেসিডেন্ট সাহিদা আক্তার বলেন, ‘এখন চাকরির জন্য জব ফেয়ার করতে হয়। আমরা কোনো পর্যায়ে চলে গেছি, হয়তো এটাই উন্নয়নের ধারা। আজ এই অনুষ্ঠান থেকে হয়তো অনেকেরই প্রশ্ন জাগবে জব ফেয়ারের সিভি দিলাম, আমার চাকরিটা হবে তো।’
রাঙামাটি নার্সিং ইনস্টিটিউটের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জ সীমা মন্ডল সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা প্রথমবারের মতো এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। যেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, সবার থেকেই সাড়া পেয়েছি। জব ফেয়ারের স্টেকহোল্ডারদের কাছে আমরা স্টুডেন্টসদের সিভি দিয়েছি। এছাড়া আমরা একটি অনলাইন লিংক আপনাদের (বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান) দেব; যেখান থেকে আপনারা চাকরিপ্রার্থী উপযুক্ত নার্স ও মিডওয়াইফারিদের বাচাই করে কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে পারবেন।
অনুষ্ঠানের শেষদিকে মেলায় স্টল দেয়া ও উপস্থিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা স্মারক হিসেবে ক্রেস্ট দেয়া হয়। রাঙামাটি নার্সিং ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাঙামাটিতে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ ‘জব ফেয়ারে’ রাঙামাটি জেলা ও চটগ্রামকেন্দ্রিক ২২টি প্রতিষ্ঠানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যাদের মধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠান মেলায় স্টলও দিয়েছি। বাকিদের বেশিরভাগ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে।
পড়ুন- সরিষাবাড়ীতে সেনাবাহিনীর অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ যুবক গ্রেপ্তার


