রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন নিকুঞ্জ এলাকায় মাদকের বিষদাঁত ভাঙতে শুরু করেছে পুলিশ। গত ১৪ ডিসেম্বর গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর খিলক্ষেত থানা পুলিশের বিশেষ তৎপরতায় পাল্টে যেতে শুরু করেছে এলাকার দৃশ্যপট। এরই ধারাবাহিকতায় ৩ জানুয়ারি গভীর রাতে এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, নগদ অর্থ ও ওয়াকিটকিসহ দুই চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অভিযানের বিস্তারিত
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৩ জানুয়ারি ২০২৬, রাত ১১:০০ ঘটিকায় খিলক্ষেত থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আলীম-এর নেতৃত্বে একটি চৌকস দল নিকুঞ্জ-২ এর ১৩ নম্বর রোডের ১৮ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাটে হানা দেয়। অভিযানে অংশ নেন এসআই মাইনউদ্দিন ও এসআই জসিম উদ্দিনসহ পুলিশের একটি বিশেষ টিম।
উদ্ধারকৃত মালামাল:
তল্লাশি চালিয়ে ওই আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয়:
* ৪০ কেজি গাঁজা (বিপুল পরিমাণ মজুদ)
* ১৭৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট
* ১,০১,৯৬০ টাকা (মাদক বিক্রির নগদ অর্থ)
* ২টি ওয়াকিটকি ও চার্জার (যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত)
* ২টি মোটরসাইকেল (সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত)
গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয়
অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় দুই কুখ্যাত মাদক কারবারিকে:
১. রামিম হাসান বাবু (এলাকায় মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা)
২. ইমতিয়াজ
তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে খিলক্ষেত থানায় পৃথক দুটি মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সাথে আর কারা জড়িত তা বের করতে তদন্ত চলছে।
পুলিশের পেশাদারিত্বের প্রশংসা
নিকুঞ্জ ও টানপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিনের মাদকের দাপট পুলিশের এই বিশেষ অভিযানে অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়েছে। পুলিশের এই সাফল্যের পর এলাকায় বইছে স্বস্তির বাতাস।
সিনিয়র সাংবাদিক ও খিলক্ষেত টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটির আহ্বায়ক জাহিদ ইকবাল এই অভিযান সম্পর্কে বলেন:
“গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর খিলক্ষেত থানা পুলিশের ত্বরিত পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসনীয়। অফিসার ইনচার্জসহ পুরো টিমের সাহসিকতা ও আন্তরিকতায় মাদক কারবারিরা এখন কোণঠাসা। আমরা বিশ্বাস করি, পুলিশ ও জনগণের এই সমন্বিত প্রচেষ্টায় নিকুঞ্জ খুব দ্রুতই মাদকমুক্ত হবে।”
থানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
অভিযানের ব্যাপারে খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল আলিম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত তল্লাশি চালিয়ে মাদকের শেকড় উপড়ে ফেলা হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন খিলক্ষেত থানায় সদ্য জয়েন করা এই অফিসার ইনচার্জ।
পড়ুন : নিকুঞ্জে মাদকের ভয়াবহ দাপট: ধ্বংসের পথে তরুণ প্রজন্ম


