ঝিনাইদহ পৌরসভার ব্যাপারীপাড়া বউবাজার এলাকায় একটি রাস্তা ভেঙে গভীর গর্ত তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে। নিজের জায়গায় রাস্তা তৈরি করা হয়েছে এমন দাবি করে পৌরসভার ৩০ বছরের পুরনো ওই রাস্তা খুঁড়ে ফেলেছেন নয়ন মিয়া ওরফে নয়ন বিশ্বাস নামে একজন। তিনি পেশায় রড সিমেন্ট ব্যবসায়ী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নয়ন মিয়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব খাটিয়ে রাস্তা ভেঙে দিয়েছেন। এতে ওই এলাকার অন্তত ৩০টি পরিবারের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ করেও স্থানীয় বাসিন্দারা কোনো প্রতিকার পাননি।
বউবাজার এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করে জানায, প্রায় ৩০ বছর ধরে ব্যাপারীপাড়া বউবাজার মহল্লায় রাস্তাটি মহল্লার মানুষ ব্যবহার করে আসছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে ২০ বছর আগে ইটের এইসবিবি (ইটের হেরিং) রাস্তা তৈরি করে দেয়া হয়।
গত ১৭ মার্চ রাস্তাটি ভেকু গাড়ি দিয়ে ভেঙে দেন মো. নয়ন মিয়া। স্থানীয়রা জানায়, রাস্তার জায়গা তার নিজস্ব জমির ওপর নির্মিত দাবি করে নয়ন মিয়া ভেকু দিয়ে রাস্তা গুড়িয়ে দেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের কোনো পূর্ব নোটিশও দেননি নয়ন মিয়া। রাস্তা ভেঙে ফেলার আগে পৌরসভাকেও তিনি অবহিত করেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এতে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। ফলে ওই রাস্তায় নারী, শিশু ও বয়স্ক সহ সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। রাস্তায় জমে গেছে হাটু পরিমাণ কাদা, পানি ও ময়লা আবর্জনা। এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। এমনকি জরুরি প্রয়োজনে ওই রাস্তা দিয়ে মহল্লার ভেতরেও বন্ধ হয়ে গেছে ভ্যান রিক্সার চলাচল। ফলে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এদিকে এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন ব্যাপারীপাড়ার বউবাজার মহল্লায় বসবাসকারীরা। গত ২৫ মার্চ জমা দেয়া অভিযোগপত্রে ওই মহল্লার অন্তত ৩০ জনের স্বাক্ষর রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার পরও ঝিনাইদহ পৌরসভার পক্ষ থেকে এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত জমি দাবি করে জনসাধারণের চলাচলের পুরনো রাস্তা ভেঙে দিয়েছেন নয়ন মিয়া। পৌরসভাধীন রাস্তা কোনো অনুমোদন ছাড়া সম্পূর্ণ বেআইনি ভাবে ভেঙে দিয়েছে। যা জনস্বার্থবিরোধী ও চরম অমানবিকতা।
লিখিত অভিযোগপত্রে এলাকাবাসীর পক্ষে প্রতিকার প্রত্যাশী আবেদনকারী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “হঠাৎ করে রাস্তা কেটে দেওয়ায় আমরা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছি। দ্রুত রাস্তা সংস্কার করার জন্য পৌরসভায় গেলেও তারা আমলে নিচ্ছে না। এলাকাবাসী এ নিয়ে কথা বলতে গেলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হুমকি ধামকি দেয়া হচ্ছে। আমরা এ ঘটনায় সুষ্ঠু সমাধান চাই। তা না হলে যেকোনো সময় মহল্লার পরিস্থিতি খারাপ হতে। রাস্তা বন্ধ থাকায় মানুষ ক্ষুব্ধ।
অভিযুক্ত নয়ন মিয়াকে বারবার ফোন দিয়েও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তবে এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক রথীন্দ্র নাথ রায় বলেন, পৌরসভার মধ্যে ব্যাপারী পাড়ার একটি রাস্তা কেটে গর্ত করেছে বলে ওই এলাকার বাসিন্দারা পৌরসভায় অভিযোগ দিয়েছে। অভিযুক্ত নয়নকে পৌরসভায় হাজির হওয়ার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে রাস্তা কেটে ইট তুলেছে এটা অপরাধ আমরা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
পড়ুন: ক্ষমতাসীন দলের অধীনে প্রথম নির্বাচনেই কারচুপি: গোলাম পরওয়ার
আর/


