১৯/০২/২০২৬, ২৩:৪৫ অপরাহ্ণ
23 C
Dhaka
১৯/০২/২০২৬, ২৩:৪৫ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

নিজের মন্ত্রীসভার সদস্যদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তারেক রহমান?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একের পর এক সিদ্ধান্ত তারই মন্ত্রীসভার সদস্যদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে যাচ্ছে কী? এমন প্রশ্ন এখন সমাজপাতায় ভাসছে। প্রধানমন্ত্রীসহ বিএনপি সরকারের ৫০ মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী এবং নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা তারেক রহমানের সিদ্ধান্তে এবার বেকায়দায় পড়বেন কী? এমন প্রশ্নও শোনা যাচ্ছে রাজনীতির ময়দানে।

দেশে ফিরেই একের পর এক চমক দিয়ে সাধারণ মানুষের মন জয় করে নিচ্ছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। দেশে ফিরেই তিনি বলেছিলেন আই হ্যাভ এ প্লান। ধীরে ধীরে প্রধানমন্ত্রীর সেই প্লানের ঝুলি খুলতে শুরু করেছে। আর সচেতন থেকে সাধারণ মানুষ সবাই মুগ্ধ হচ্ছেন তার সিদ্ধান্তে।

শেষ থেকে শুরু করা যাক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন তিনি সাপ্তাহিক ছুটি থাকা সত্ত্বেও শনিবার অফিস করবেন। তার এই ঘোষণায় প্রত্যাশা করা হচ্ছে অন্যান্য মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী আমলা এবং সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারি যাদের প্রয়োজন হবে তারাও অফিস করবেন। সচেতনরা বলছেন- এতে করে রাষ্ট্রীয় কাজে গতি আসবে।

বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে রোববার সাপ্তাহিক ছুটি। সে হিসেবে বাংলাদেশের সাথে বর্হিবিশ্বের যোগাযোগ তিনদিন রাষ্ট্রীয়ভাবে খুব একটা হয় না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে শনিবার অফিস করলে এই তিনদিনের দুরত্ব একটু কমে আসবে।

প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রয়োজন না হলে তিনি সরকারী গাড়ি এবং সরকার নির্ধারিত গাড়ির জ্বালানি ব্যবহার করবেন না। প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত গাড়ির বহরেও তিনি কাটছাট করেছেন। সচেতনরা মনে করছেন যেহেতু প্রধানমন্ত্রী এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেহেতু মন্ত্রী পরিষদের সদস্যরাও হয়তো সেটা অনুসরণ করবেন।

সূত্র মতে, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের জন্য প্রতিদিন ১৮ লিটার গাড়ির জ্বালানি তেল বরাদ্দ থাকে। অকটেনের হিসেবে প্রতি লিটার ১২০ টাকা হলে দৈনিক ২১৬০ টাকা সরকারের খরচ হয়। মসে ২২ দিনের কর্মদিবস ধরলে সেটা দাড়ায় জনপ্রতি ৪৭,৫২০ টাকা। প্রধানমন্ত্রী সহ মোট ৫০জন মন্ত্রী সভার সদস্য যদি এমন সিদ্ধান্ত নেন তাহলে মাসে সরকারের সাশ্রয় ২৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।

এছাড়া মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের পরিবহন ভাতা হিসেবে মাসে জনপ্রতি ৭০ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয় বলে জানা যায়। সে হিসেবে এই অংকটি দাড়ায় ৩৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ কেবল গাড়ি মেইনটেইন আর জ্বালানি বাবদ প্রতিমাসে সরকারের খরচ কমবে প্রায় ৫৯ লাখ টাকা।

প্রধানমন্ত্রী সর্বশেষ জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষনে বলেছেন জনদুর্ভোগ কমাতে হবে, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি এখনও পর্যন্ত রাস্তা ব্লক না করেই স্বাভাবিকভাবে গাড়িবহর কম নিয়ে চলাফেরা করেছেন। যা সর্বমহলের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

সরকারের একটি সূত্র থেকে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রীসভার সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করছেন না তারেক রহমান। কারণ, প্রায় ৪৯ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী যদি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয় তাহলে সড়কে বড় ধরনের যানজট হতে পারে এবং জনদুর্ভোগ বাড়বে। এর পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রী একাই চলে যাচ্ছেন সচিবালয়ে এবং সেখানেই মন্ত্রীসভার বৈঠক করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেয়ার আগেই তিনি ঘোষণা করেন বিএনপি থেকে নির্বাচিত কোন সংসদ সদস্যরা শুল্কমুক্ত কোঠায় গাড়ি কিনবেন না। নিবেন না সরকারি প্লট। সুতরাং বলাই যায়- ভিন্নকিছুই করতে চাচ্ছেন তারেক রহমান। প্রয়োজন কেবল জনগণ আর রাজনীতিকদের সমর্থন।

কেউ কেউ বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর একের পর এক চমকে ভরা সিদ্ধান্ত অন্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী কিংবা যদি উপমন্ত্রী কেউ হন তারাও মানা শুরু করবেন। এতে হয়তো মন্ত্রী সভার কোন কোন সদস্য বেকায়দায় পড়বেন- তবে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের যে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে জনগণ সেটার বুনিয়াদ হয়তো ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে তরুণ প্রজন্ম


বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন