ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে খুলনা জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে ভোটের উত্তাপ যখন চরমে, তখন একটি ব্যতিক্রমী তথ্য সামনে এসেছে।
বিভিন্ন দলের ৩৮ জন প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ১৫ জন নিজ নিজ প্রতিদ্বন্দ্বী আসনের ভোটার নন। ফলে তাঁরা নিজের প্রতীকে নিজ আসনে ভোট দিতে পারছেন না।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া প্রার্থীদের হলফনামা ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ব্যবহার করে স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে তাঁদের ভোটকেন্দ্র যাচাই করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, খুলনা-১ আসনে চারজন, খুলনা-৩ আসনে সাতজন, খুলনা-৫ আসনে দুজন এবং খুলনা-৪ ও খুলনা-৬ আসনে একজন করে প্রার্থী নিজ নিজ আসনের ভোটার নন। এ ১৫ জনের মধ্যে বিএনপির দুজন এবং জামায়াতে ইসলামীর একজন প্রার্থী রয়েছেন।
খুলনার ছয় আসনে এবার বিএনপির ছয়জন, জামায়াতে ইসলামীর পাঁচজন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পাঁচজন প্রার্থী রয়েছেন। জাতীয় পার্টি চারটি আসনে এবং সিপিবি তিনটি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। এ ছাড়া খেলাফতে মজলিস, ইসলামী ফ্রন্ট, জেএসডি, বাসদ, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি, গণ অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ সম অধিকার পরিষদ ও এনডিএম একটি করে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। অন্যরা স্বতন্ত্র প্রার্থী।
যেসকল প্রার্থী নিজ আসনের ভোটার নন : খুলনা-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী খুলনা-৫ আসনের ভোটার। একই আসনে গণ অধিকার পরিষদের জি এম রোকনুজ্জামান ও বিএমজেপির প্রবীর গোপাল রায় ঢাকার পৃথক আসনের ভোটার। বাংলাদেশ সম অধিকার পার্টির সুব্রত মণ্ডল বাগেরহাট-৩ আসনের ভোটার। খুলনা-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলনের আবদুল আউয়াল, বাসদের জনার্দন দত্ত, জাতীয় পার্টির আবদুল্লাহ আল মামুন, এনডিএমের শেখ আরমান হোসেন এবং তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী অন্য আসনের ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত। খুলনা-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম আজমল হোসেন ঢাকার ভোটার। খুলনা-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগার লবি ও জাতীয় পার্টির শামিম আরা পারভীন খুলনা-২ আসনের ভোটার। খুলনা-৬ আসনে বিএনপির এস এম মনিরুল হাসান খুলনা-৪ আসনের ভোটার।
বিএনপির খুলনা-১ প্রার্থী আমীর এজাজ খান বটিয়াঘাটার খারাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটার। খুলনা-২ প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু টুটপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার। খুলনা-৩ প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল খালিশপুরের মাওলানা ভাসানী বিদ্যাপীঠ কেন্দ্রে ভোটার। খুলনা-৪ প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল রূপসার আইচগাতি কেন্দ্রে ভোটার।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতের প্রার্থীরা নিজ নিজ নিবন্ধিত কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে ভোট দেবেন। একইভাবে খেলাফতে মজলিসসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যে আসনে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সে আসনের ভোটার না হওয়া দলীয় কৌশল বা স্থানীয় সাংগঠনিক বাস্তবতার প্রতিফলন হতে পারে। এতে ভোটারদের সঙ্গে প্রার্থীর সামাজিক যোগাযোগ দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। স্থানীয়দের কেউ কেউ মনে করছেন, অন্তত দুটি আসনে ‘বহিরাগত প্রভাব’ ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, খুলনার ছয় আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে এবার কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নয়, প্রার্থীদের ভোটার পরিচয়ও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
পড়ুন- বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, রণক্ষেত্র জয়পুরহাট
দেখুন- দুনীর্তি সূচকে বাংলাদেশ ১৩তম, অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থ: টিআইবি


