১৯৯৬ সালের ২৪ অক্টোবর দৈনিক জনকণ্ঠ-এ প্রকাশিত একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-এর সহকারী ব্যবস্থাপক পদে নিয়োগের জন্য প্রয়োজন ছিল সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কমপক্ষে তিন বছরের অভিজ্ঞতা এবং ন্যূনতম দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক ডিগ্রি। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এই শর্ত পূরণ না করেও মণি লাল দাসকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মণি লাল দাস ১৯৮৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনী সরকারি সালেহ আহমেদ কলেজ (তৎকালীন চৌমুহনী সরকারি এস. এ কলেজ) থেকে তৃতীয় শ্রেণিতে স্নাতক পাস করেন। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে যেখানে দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক ডিগ্রি আবশ্যক ছিল, সেখানে তৃতীয় শ্রেণিতে স্নাতক প্রাপ্ত একজন প্রার্থী কীভাবে নিয়োগ পেলেন—এ প্রশ্ন উঠে আসছে।
এ বিষয়ে মণি লাল দাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে তিনি মাস্টার্সে দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হওয়ার সার্টিফিকেটের ফটোকপি এই প্রতিবেদকের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান।
চট্টগ্রাম জেলা শাখার সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবির নাগরিক জানান, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত ভঙ্গ করে নিয়োগ দেওয়া কেনো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি এটিকে দূর্নীতির একটি উদাহরণ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত করা উচিত। বলেন, অনিয়ম-দূর্নীতির সংস্কৃতি যদি শেষ না হয়, তবে দেশ কখনোই এগিয়ে যেতে পারবে না।
বর্তমানে মণি লাল দাস বিপিসির ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) হিসেবে কর্মরত। দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করলেও, তার প্রাথমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছতা ছিল কি না—এ প্রশ্ন এখন সরব।
২০২৩ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন বিপিসির মহাব্যবস্থাপক মণি লাল দাসের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানে দুদক প্রাথমিকভাবে মণি লাল দাস এবং তার স্ত্রী সেপিকা দাশের নামে আড়াই কোটি টাকারও বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পায়। এই কারণেই তাদের নামে সম্পদ বিবরণী দাখিলের সুপারিশ করে দুদক।
যদিওবা মণি লাল এটিকে ষড়যন্ত্র বলছেন।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত ভঙ্গ করে কীভাবে তার নিয়োগ সম্ভব হয়েছে এবং তার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ কতটুকু সত্য—এ সবই এখন সরকারের তদন্তের আওতায়।
পড়ুন:মেহেরপুরে ভিজিএফের চাল বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ
দেখুন:শিক্ষার্থী নি/হ/তে/র পর পলাতক শহীদ ক্যাডেট একাডেমির শিক্ষকরা |
ইমি/


