চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেবল ক্ষমতার পালাবদল হিসেবে দেখলে চলবে না; এটিকে ‘রাষ্ট্র মেরামত’-এর একটি বিরল সুযোগ হিসেবে নিতে হবে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ফটিকছড়ি উপজেলায় ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, এই নির্বাচন সরকারি কর্মচারীদের জন্য জনগণের পুঞ্জীভূত আস্থার সংকট দূর করে নিজেদের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের শ্রেষ্ঠ সুযোগ। দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে—সরকারি কর্মচারীরা সততা ও দক্ষতার সঙ্গে নিরপেক্ষভাবে শুধু রাষ্ট্রের জন্য কাজ করতে পারেন।
তিনি বলেন, “এটি শুধু একটি নির্বাচন নয়। এটি আগামী বাংলাদেশের একটি রূপরেখা। আগামী বাংলাদেশ কতটা নিরাপদ হবে, নাগরিকরা কতটা নিরাপদ থাকবে—তার ভিত্তি তৈরি হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।”
সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাষ্ট্র থেকে আমরা অনেক কিছু পেয়েছি, এবার রাষ্ট্রকে দেওয়ার সময় এসেছে। নিরপেক্ষতা, সততা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে রাষ্ট্রের ‘ঋণ শোধ’ করতে হবে।
ভোটাধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, দেশের নাগরিকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা—তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামনে পথ কঠিন হলেও ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে থাকবে সিসি ক্যামেরা, পুলিশের বডি ক্যামেরাসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পছন্দ বা থাকলেও তা প্রকাশের সুযোগ নেই। নির্বাচন কমিশনের অধীনে কাজ করার সময় একমাত্র পরিচয় হবে—দেশপ্রেম।
তিনি বলেন, “আমাদের সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু সেই সীমাবদ্ধতা যেন দায়িত্ব ও দেশপ্রেমের কাছে কখনো পরাজিত না হয়। মুক্তিযোদ্ধা ও ছাত্রজনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে, তার ভাবমূর্তি রক্ষার দায়িত্ব আজ আমাদের কাঁধে।”
সভায় উপস্থিত নির্বাচন ও প্রশাসন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগ্যতার ওপর আস্থা প্রকাশ করে জেলা প্রশাসক বলেন, আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি যেন না থাকে। প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব শতভাগ পালন করতে হবে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত, লক্ষ্মীছড়ি জোনের উপ-অধিনায়ক সাদ বিন সাঈদ এবং মাটিরাঙ্গা জোনের উপ-অধিনায়ক মোহাম্মদ আলতাফ মাহমুদ রুবেল।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ, ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম, ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম এবং ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্র দে।
এ ছাড়া বিজিবির সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ শামসুল হক, ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রকর চাকমা, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা আরজিনা আক্তার সভায় অংশ নেন।অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান ও ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন: কত কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক অরিজিৎ সিং?
দেখুন: টেকনাফে রোহিঙ্গাদের স*ন্ত্রাসে চরম আতঙ্কে স্থানীয়রা
ইম/


