28.5 C
Dhaka
০৪/০৩/২০২৬, ১৮:১১ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

নিরস্ত্রীকরণ না হলে লেবাননে শান্তি ফেরার সুযোগ নেই: ইসরায়েল

ঈদের আগের দিন লেবাননের রাজধানী বৈরুতে আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। নভেম্বরে হিজবুল্লাহর সাথে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো লেবাননে হামলা চালালো নেতানিয়াহু সরকার। নিরস্ত্র না হলে হিজবুল্লাহর ওপর হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে ইসরায়েল। শনিবার কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

ইসরায়েল জানিয়েছে, নিরস্ত্রীকরণ না হলে লেবাননে শান্তি ফেরার কোনো সুযোগ নেই। তারা হামলা চালিয়ে যাবেই। হিজবুল্লাহর সাথে যুদ্ধবিরতির পর লেবাননে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় এবং সংঘাতময় হামলা। ইসরায়েলের চালানো এই হামলার ফলে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি।

গত বৃহস্পতিবার রাতে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের চালানো একের পর এক বোমা হামলায় কমপক্ষে নয়টি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। বৈরুতের এই অঞ্চলটি হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হলে, ‘বৈরুতে কোনো শান্তি থাকবে না’ এবং ‘লেবাননে কোনো শৃঙ্খলা বা স্থিতিশীলতা আশা করা যাবে না।’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরো বলেন, “চুক্তি না মানলে আমরা আরও জোরালোভাবে হামলা চালাতে বাধ্য হব।”

ইসরায়েলের দাবি, বৈরুতে তাদের সর্বশেষ তারা হিজবুল্লাহর ড্রোন কারখানায় হামলা চালিয়েছিলো। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ ভবিষ্যৎ যুদ্ধের জন্য ইউএভি বা ড্রোন তৈরির কাজ চালাচ্ছিল, যা নভেম্বরে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে।

তবে হিজবুল্লাহ সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জানিয়েছে, ওইসব এলাকায় কোনো ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র ছিল না। এছাড়াও একটি বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানায়, হামলায় শুধু নয়টি ভবন ধ্বংস হয়নি, বরং আশপাশের বহু ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নভেম্বরের যুদ্ধবিরতির পর এটি ছিল চতুর্থ এবং সবচেয়ে বড় হামলা। এর আগে এপ্রিল মাসেও বৈরুতে হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। তাদের দাবিদ, হিজবুল্লাহ ‘নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের’ অবকাঠামো গোপনে মজুত করছিল।

অন্যদিকে লেবানন সরকার জানিয়েছে, ইসরায়েল গত সাত মাসে প্রায় প্রতিদিনই যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। লেবানন এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যারা এই চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় ছিলো।

ইসরায়েলের এই হামলার নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন আউন বলেন, “পবিত্র ঈদের ঠিক আগমুহূর্তে এই হামলা একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির জঘন্য লঙ্ঘন।”

লেবাননের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ১৯০ জন নিহত এবং প্রায় ৫০০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, যুদ্ধ শুরুর আগে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যার মধ্যে বহু বেসামরিক নাগরিকও ছিলেন।

লেবাননের সেনাবাহিনী জানায়, বারবার চুক্তি লঙ্ঘনের ফলে তাদের ভূমিকা দুর্বল হয়ে পড়ছে। তারা দাবি করে, ইসরায়েলের দাবি করা লেবাননে অবস্থিত ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রগুলো তাদের পরিদর্শনের প্রস্তাব দিলেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে।

তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যদি এমন চলতে থাকে, তাহলে তারা হিজবুল্লাহর অবকাঠামো সন্ধানের কাজে ইসরায়েলকে আর সহায়তা করবে না।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের অভিযানের প্রতিবাদে হিজবুল্লাহ সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে হামলা চালায়। সেই থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে সংঘাত।

অবস্থা যতই জটিল হোক না কেন, বিশ্লেষকদের দাবি যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়নে আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর কার্যকর ভূমিকা না থাকলে, লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে সহিংসতা থামবে না।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন: লেবাননের রাষ্ট্রপতির কাছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র পেশ

এস

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন