জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সর্বশেষ বৈঠকটি পরিণত হয় উত্তপ্ত বিতর্কে। শুক্রবার (২০ জুন) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইরান ও ইসরায়েল একে অপরকে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার জন্য দায়ী করে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে। দুই দেশের মিত্ররাও তাদের অবস্থান তুলে ধরে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেন। তবে, সংকট সমাধানে কীভাবে এগোনো উচিত, সে বিষয়ে পরিষদ কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি।

নিরাপত্তা পরিষদে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা
বৈঠকে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি বলেন, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে অস্তিত্বের হুমকি হিসেবে তুলে ধরে আসছে, যার আড়ালে দেশটি তাদের আগ্রাসন ও যুদ্ধাপরাধকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে নিরপরাধ শিশু ও বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করছে এবং অন্যান্য দেশের ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে।
ইরানি রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে ইসরায়েলি হামলায় নিহত শিশুদের ছবি তুলে ধরেন এবং নিরাপত্তা পরিষদকে এই ‘সন্ত্রাসী আচরণ’ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন তীব্র ভাষায় পাল্টা আক্রমণ করে বলেন, ইরান ‘ভুক্তভোগী সেজে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সহানুভূতি ভিক্ষা করছে’। তিনি অভিযোগ করেন, ইরান হচ্ছে সন্ত্রাসবাদে পৃষ্ঠপোষক একটি দেশ, যারা গণহত্যার পরিকল্পনা করে এবং এ অঞ্চলে সহিংসতা ছড়িয়ে দিচ্ছে। ইরানই হিজবুল্লাহ ও হুথিদের মতো গোষ্ঠীকে সহায়তা দিয়ে অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলছে বলে দাবি করেন ড্যানন।
বৈঠকে বেশ কয়েকটি দেশ সংকটের কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানালেও, কীভাবে সেই সমাধান সম্ভব—সে বিষয়ে পরিষদের সদস্যদের মধ্যে মতানৈক্য স্পষ্ট ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ইসরায়েলের নিরাপত্তা-উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বললেও, রাশিয়া ও চীন ইরানের উপর চাপ সৃষ্টিকে সংকট ঘনীভূত করার উপাদান হিসেবে দেখেছে।
এই উত্তেজনার পটভূমিতে পররাষ্ট্র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপত্তা পরিষদের ভেতরকার এই বিভক্তিই মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার কূটনৈতিক সমাধানকে জটিল করে তুলছে।

