দেশজুড়ে চলমান বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেই চট্টগ্রামের পটিয়ায় শুরু হয়েছে বৈশাখী মেলা। সন্ধ্যা ৭টার পর মেলা পরিচালনার অনুমতি না থাকলেও নির্ধারিত সময় অমান্য করে রাত পর্যন্ত চালানো হচ্ছে মেলার কার্যক্রম।
গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া এ মেলা প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আগামী ২০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে বলে মেলা পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের পরও দোকানপাট খোলা রেখে রাত পর্যন্ত মেলা চালানো হচ্ছে।
পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত মেলার অনুমতির সময়সীমা নিয়েও দেখা দিয়েছে ভিন্ন তথ্য। পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনীল কুমার বড়ুয়া জানান, মেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে মাত্র চার দিনের জন্য। এরপর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় মেলার কার্যক্রম বন্ধ রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করলেও দীর্ঘ সময়ব্যাপী আলোকসজ্জানির্ভর এই আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহলের অনেকে। তাদের মতে, বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন খাতে সাশ্রয়মূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে—এমন সময়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারনির্ভর আয়োজন কতটা সময়োপযোগী, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন।
পটিয়ার একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক রবিউল হোসেন বলেন, দেশে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সরকার যেখানে শিক্ষা কার্যক্রমেও বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে, সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে আলোকসজ্জাসমৃদ্ধ মেলার আয়োজন অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত হতে পারে। এতে বিদ্যুতের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে তিনি মনে করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মেলার নামে রাত অবধি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার সংকটকে আরও তীব্র করতে পারে।
তবে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে স্থানীয় মানুষের বিনোদন ও সাংস্কৃতিক চাহিদার কথা বিবেচনা করেই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
পটিয়া বৈশাখী মেলার দোকান কমিটির আহ্বায়ক অহিদুল আলম চৌধুরী পিবলু বলেন, “সন্ধ্যা ৭টার পর দোকান খোলা রাখার অনুমতি নেই। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখবো।”
পটিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারহানুর রহমান জানান, মেলার অনুমতি রয়েছে শুধুমাত্র সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। এর পর মেলা চালানোর অনুমতি নেই।


