জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনপিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, নির্বাচনী পরিবেশ কেমন হতে পারে, তার একটা টেস্ট ম্যাচ গতকাল ঢাকায় দেখতে পেয়েছেন। আওয়ামী ফ্যাসিবাদি কায়দায় পুলিশ তার নগ্ন রূপে ফিরে গিয়েছে।
শনিবার দুপুরে যশোর শহরের দড়াটানা ভৈরব চত্ত্বরে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বিএনপি অনেক নেতাকর্মী চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি চাই। নেতা চাঁদাবাজি করতে অর্ডার দেন; বাস্তবায়ন করতে হয় কর্মীদের। তৃণমূলের অনেক কর্মী আছে, তারা এসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত না। গত ১৭ বছর যে সব বিএনপির নেতাকর্মী নির্যাতিন হয়েছে, নিপিড়ীত হয়েছে, গুম হয়েছে, তারা মার্জিনাইজ। হাইব্রিড বিএনপি এসে মূল বিএনপিদের কর্ণার করে দিয়েছে। আপনারা বিএনপি ভাইদের কাছে যাবেন, যারা জিয়ার দর্শনকে বিশ্বাস করে, খালেদা জিয়ার ধারণ করে, তারা চাঁদাবাজি সঙ্গে সম্পৃক্ত না। তারা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশকে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। তারা ধানের শীষের বিপরীতে গিয়ে দাঁড়ি পাল্লা শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ার অপেক্ষা করছে। আপনারা বিশ্বাস রাখেন, তারা ধানের শীষের মিছিল নিয়ে কেন্দ্রে যাবে, কিন্তু ভোটটা দিবে দাঁড়িপাল্লা শাপলা কলিতে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন পয়েন্টে দুইটি পক্ষে বিভক্ত হয়েছে। একটি পক্ষ জুলুমের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে, একটি পক্ষ মা বোনদের হিজাব জামাকাপড় খুলে নিতে চাইছে। একটি পক্ষ আবার ভারতের দালালি ও গোলামি করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা মুক্তির দার প্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছি। আমাদের নিরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। আপনি প্রত্যোক মানুষের দ্বারে দ্বারে যান, প্রত্যোক মানুষের কাছে যান তারা বলছে আগামি ১২ তারিখে ভোট দাঁড়ি পাল্লা শাপলা কলিতেই দিবো। এদেশের কৃষক শ্রমজীবী মানুষেরা ভযে রয়েছে। নীরব চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, আবার যদি আসে তাহলে ব্যবসায় বিঘ্নিত হবে।।চাঁদাদিয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে হবে। সেই জন্য তারা চাঁদার থেকে পরিত্রান চাই। তাই আপনাদের ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যেতে হবে। প্রার্থীর কাছে ভোট নাই, ভোট হচ্ছে জনগণের কাছে।
পুলিশের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে হাসানাত আব্দুল্লাহ বলেন, আপনি যে পোশাক পরিধান করে আছেন, সেটি আপনার যোগ্যতা, মেধায় অর্জন করেছেন। আপনাকে অনুরোধ করবো, আপনার বাসায় সন্তান রয়েছে। আপনার মা বাবা রয়েছে। আপনি যদি বিগত তিনটি নির্বাচনের মত আবার যদি ঘুসের টাকা স্পর্শ করে দেখেন, আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠবে। আপনি সিদ্ধান্ত নিবেন, আগামির বাংলাদেশ, সন্তানের ভবিষত চাঁদাবাজদের হাতে তুলে দিবেন নাকি ইনসাফের বাংলাদেশে দিবেন। পুলিশ ভাইয়েরা, আপনারা বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকুন। কোন রাজনৈতিক দলের কাছে না। রাজনৈতিক দলের কাছে দায়বদ্ধ থাকলে কি পরিণতি হয়, সেটি গত জুলাইয়ে দেখেছেন। আল্লাহর কসম করে বলছি, আপনারা ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে থাকুন। আপনারা বাংলাদেশের জনগণের চাকরি করতে আসছেন। জনতার ট্যাক্সের টাকায় আপনার বেতন হয়। কোন রাজনৈতিক দলের টাকায় আপনার বেতন হয় না। আজকে যদি আপনি কোন রাজনৈতিক দলকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে ক্ষমতায় নিয়ে যান, আগামিকাল আপনার সন্তানের চাকরির জন্য তাদেরকেই ঘুস দিতে হবে। আমরা পুলিশের বন্ধু, আমাদের বাংলাদেশকে সুখী সমৃদ্ধ করে তুলতে আপনাদের অবদান রয়েছে। আমরা চাই একসঙ্গে কাঁদে কাঁদ মিলিয়ে দেশটাকে গড়বো।
যশোর জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রধান সমন্বয়ক মুহা. নুরুজ্জামানের সভাপতিত্বে পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন যশোর-৩ (সদর) আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী আব্দুল কাদের। আর বক্তৃতা করেন এনসিপির দক্ষিণ অঞ্চলের সংগঠক শাকিব শাহরিয়ার সহ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। বক্তব্য শেষে নেতৃবৃন্দ শহরে মিছিল বের করেন। নেতাকর্মীরা জানান, যশোরের কর্মসূচি শেষে বিকালে হাসনাত আব্দুল্লাহ খুলনার কর্মসূচিতে যোগ দিবেন।
পড়ুন- মাদারীপুরে মিথ্যা মামলায় প্রবাসী যুবককে ফাঁসানোর অভিযোগে মানববন্ধন


