গোপালগঞ্জ-২ আসনের আওতাধীন কাশিয়ানী থানার তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী ও বেশ কয়েকটি মামলায় ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামি রাসেল প্রকাশ্যে এবং বেপরোয়াভাবে চলাফেরা করায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও গোপালগঞ্জ-২ (কাশিয়ানী ও গোপালগঞ্জ সদর) আসনের সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে।
মেহেদী হাসান রাসেল এর বিরুদ্ধে আদালতের ওয়ারেন্ট কার্যকর করতে গিয়েও পুলিশ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ফলে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ-২ আসনে সহিংস পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আস্থা ক্ষুন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও গোপালগঞ্জ-২ আসনের কয়েকজন ভোটার উল্লেখ করেছেন। রাসেল বাহিনী প্রশাসনের নাকের ডগায় অত্যাধুনিক অবৈধ অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র এখনো পুরোপুরি উদ্ধার না হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে অস্ত্র প্রবেশ করায় সন্ত্রাসীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে, তবুও অস্ত্র উদ্ধারের হার আশানুরূপ নয় বলে মত অনেকের। গ্যাংস্টার রাসেল বাহিনীর কাছেও অবৈধ অস্ত্র মজুদ আছে বলেও নিশ্চিত করেছে স্থানীয়রা।
গত বছরের নভেম্বর মাসে গোপালগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা হত্যা মামলায় গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানার রাসেল বাহিনীর প্রধান মেহেদী হাসান রাসেলকে আটক করেছিলো পুলিশ। অদৃশ্য প্রভাবে সে জামিনে বেরিয়ে এসে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। স্থানীয়রা আতঙ্কিত কারণ তারা জানে মেহেদী হাসান রাসেল নির্বাচনকালীন সময়ে ভীতিকর অবস্থা তৈরিতে সচেষ্ট। রাসেল বাহিনী শুধু গোপালগঞ্জেই নয়, দেশের ভিভিন্ন স্থানে ভাড়াটে খুনি হিসেবে কাজ করে। ডাকাতি-খুন-ধর্ষণসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে।
মেহেদী হাসান মিয়া ওরফে রাসেল (৩৪) গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি থানার খাগড়াবাড়িয়া গ্রামের মৃত বালা মিয়ার ছেলে। রাসেল বাহিনীর প্রধান মেহেদী হাসান রাসেল এর নানাবিধ অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকার মানুষ। রাসেলের বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজী, সন্ত্রাসীসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে কাশিয়ানী থানায় একাধিক চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। এছাড়া কাশিয়ানী থানা সূত্রে জানা গেছে, মেহেদী হাসান রাসেল বেশ কয়েকটি মামলার এজাহারভূক্ত আসামী।
আশুলিয়া থানায় জুলাই হত্যা মামলার আসামী রাসেল। ১২ জুন ২০২৫ এ দায়েরকৃত মামলা যার এফআইআর নং-৩২, জিআর নং-০৯৭, ধারা – ১৪৩/১৪৭/১৪৮/৩০৭/৩২৪/৩২৬/৫০৭/৩৭ পেনাল কোড-১৮৬০ ।
৫ জুলাই, ২০২২ তারিখে মেহেদী হাসান রাসেল এর নামে একটি মামলা নথিভূক্ত হয়। যার নম্বর কাশিয়ানি থানার এফআইআর নং-২/৯২, জি আর নং-৯২/২২ । ধারা – ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৫০৬/১১৪ পেনাল কোড-১৮৬০ ।
১০ মার্চ, ২০২৩ তারিখে মেহেদী হাসান রাসেল এর নামে আরো একটি মামলা নথিভূক্ত হয়। যার নম্বর কাশিয়ানি থানার এফআইআর নং-১১, জি আর নং-৪৫ । ধারা- ১৪৩, ৪৪৭, ১৪৩, ৩৮৫, ৩৪১, ৫০৬/পেনাল কোড-১৮৬০ ।
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ তারিখে মেহেদী হাসান রাসেল এর নামে আরো একটি মামলা নথিভূক্ত হয়। যার নম্বর কাশিয়ানি থানার এফআইআর নং-১১, জি আর নং-১৫২ । ধারা – ৩৮৫, ৩৮৬,৪২৭,৫০৬ পেনাল কোড-১৮৬০।
উল্লেখ্য, গত ১৩ সেপ্টেম্বর জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস এম জিলানী গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী গ্রামে যাচ্ছিলেন। বিকালে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া এলাকায় পৌঁছালে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা তার গাড়ি বহরে হামলা চালায়। এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক শওকত আলী দিদারকে পিটিয়ে হত্যা করে মহাসড়কের ঢালে ফেলে রাখা হয়। এ ঘটনায় ১৭ সেপ্টেম্বর দিদারের স্ত্রী রাবেয়া রহমান বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ অবস্থায় নির্বাচনের আগেই রাসেলকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন গোপালগঞ্জের শান্তিপ্রিয় জনসাধারণ।
পড়ুন: ফেনীতে জামায়াতের জনসভায় মানুষের ঢল
আর/


