আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। সে হিসেবে নির্বাচন আয়োজনের জন্য হাতে সময় রয়েছে মাত্র ৩৬ দিন। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া ১৫ শতাংশ আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৩০ শতাংশ গুলি এখনো উদ্ধার হয়নি। ভোটের আগে এসব অবৈধ অস্ত্র-গুলি উদ্ধার করা জরুরি বলে আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) জানিয়েছেন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
এদিকে দেশে গত এক বছরে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রে খুনাখুনির ঘটনা বেড়েছে। এই সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতায় আড়াই শতাধিক বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়। নিহত হয় শতাধিক ব্যক্তি। এসব ঘটনায় জুলাই গণ-আন্দোলনের সময় বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই সময় দেশের বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও পুলিশি স্থাপনা থেকে পাঁচ হাজার ৭৫৩টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়। এর মধ্যে গণভবন থেকে লুট হওয়া স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৩২টি ভয়ংকর অস্ত্রও রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযানে বেশির ভাগ অস্ত্র উদ্ধার হলেও এক হাজার ৩৩৫টি অস্ত্র এখানো উদ্ধার হয়নি। দুই লাখ ৫৭ হাজার ১৮৯টি গুলি এখনো উদ্ধার করা যায়নি।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনা দেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এর বাইরে গুলিতে আরো অনেক রাজনৈতিক নেতাকর্মী নিহত হন। এরই ধারাবাহিকতায় চাঁদা না পেয়ে বেপরোয়া সন্ত্রাসীরা গতকাল শুক্রবার চট্টগ্রামের চকবাজার থানা এলাকার এক শীর্ষ ব্যবসায়ীর বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য রয়েছে, আগামী জাতীয় সংসদ র্নিবাচনের আগে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে দেশে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ অস্ত্র ঢুকছে।
এসব অস্ত্রে হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করার প্রমাণ রয়েছে।
অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচন ঘিরে উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে উঠতে পারে থানা ও ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া এসব আগ্নেয়াস্ত্র। দ্রুত এসব অস্ত্র উদ্ধার করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই।
মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে দেশে খুনাখুনি নিয়ন্ত্রণে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে না পারলে হানাহানি বাড়তে পারে।
পড়ুন: পুলিশ, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন গুলশানের আন্ডারে চলে গেছে: হাসনাত আবদুল্লাহ
আর/


