বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও দলের ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সম্পাদক ড. এম এ কাইয়ুম বলেছেন, ১৯৭১ সালের ইতিহাস জাতি কখনো ভুলে যেতে পারে না। সেই সময় জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা জনগণের সামনে স্পষ্ট। তারা ছিলো দেশবিরোধী শক্তি, মা-বোনদের ইজ্জত লুন্ঠনে সহযোগিতা করেছে এবং পাকিস্তানি শাসকদের মদদ দিয়েছে।
আজ দুপুরে রাজধানীর ভাটারা সোলাইমাদ এলাকায় বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা ও দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক এই প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বলেন, বিএনপি, আওয়ামী লীগ কিংবা লাঙ্গল দেখেছি আমরা, এবার জামায়াতকে দেখার সময়। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ৭১ সালে যারা দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, তাদের ইতিহাস বিচার করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইয়াহিয়া-আয়ুবের ক্যাবিনেটে জামায়াতের চারজন মন্ত্রী ছিল—এটাই তাদের অবস্থান প্রমাণ করে।
তিনি বলেন, দাঁড়ি-টুপি পড়লেই মুসলমান হওয়া যায় না। মুসলমান হতে হলে নামাজ আদায় করতে হয়, ইমান ঠিক রাখতে হয় এবং আল্লাহর উপর পূর্ণ বিশ্বাস থাকতে হয়। ধর্মকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা জনগণ আর মেনে নেবে না।
তিনি আরও বলেন, আমি সমালোচনা বা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমি চাই সৌহার্দপূর্ণ ও ভদ্র রাজনৈতিক সংস্কৃতি। ঢাকা-১১ আসনে যে দলই নির্বাচিত হোক না কেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এই এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চাই। বিভাজনের রাজনীতি নয়, ঐক্যের রাজনীতিই আমাদের লক্ষ্য। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির মনোনীত প্রাীথী ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, নির্বাচনের সকল আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালাতে হবে। কোনো ধরনের উসকানি বা বিশৃঙ্খলা বিএনপি সমর্থন করে না। আমরা জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করি।
ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, দীর্ঘদিন দেশে ভোটাধিকার ছিল না, আইনের শাসন কার্যত অনুপস্থিত ছিল এবং বিচার ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। গুম-খুন, ভয়ভীতি আর দমন-পীড়নের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল। জনগণ এসব আর দেখতে চায় না। এখন রাজনৈতিক ধারা পরিবর্তনের সুযোগ এসেছে। এই পরিবর্তন আসতে হবে ব্যালটের মাধ্যমে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল একটি বৈষম্যহীন ও কল্যাণকর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য তারেক রহমান ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। তার নেতৃত্বেই আগামীর বাংলাদেশ হবে গণতান্ত্রিক, মানবিক ও জনগণের বাংলাদেশ।


