স্বাধীন বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাস যেন বিতর্ক আর বয়কটের এক দীর্ঘ গল্প। দেশে হওয়া ১২টি নির্বাচনে সবগুলো দল অংশ নিয়েছে মাত্র ৬টি নির্বাচনে। আসন্ন নির্বাচনেও ভোটের মাঠে নেই আওয়ামী লীগ সহ নয় দল। সাধারণ মানুষ বলছে, অংশগ্রহন মূলক নির্বাচনের স্বার্থে সব দলকে সুযোগ দেয়ার কথা। আর বিশেষজ্ঞরা বলেন,আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার কোন যৌক্তিকতা নেই।
ক্যালেন্ডারের পাতায় ৭ই মে ১৯৮৬, রোজ বুধবার।দেশে তৃতীয় বারের মতো অনুষ্ঠিত হয় সাধারণ নির্বাচন। আর সে নির্বাচনে সামনে আসে বয়কটের মতো ঘটনা। নির্বাচন বর্জন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
এরপর দেশের রাজনীতির একটি প্যাটানে পরিনত হয় বয়কট । দেশে অনুষ্ঠিত ১২টি নির্বাচনের মধ্যে ৬টি নির্বাচন বর্জন করে কোন না কোন দল। বিএনপি বয়কট করে ৪টি নির্বাচন। আওয়ামী লীগ বর্জন করে ১৯৮৮ ও ১৯৯৬ এর নির্বাচন। এছাড়াও বয়কটের খাতায় নাম আছে জাতীয় পার্টি ও জামায়াত ইসলামিরও।
নানা চড়াই-উতরাই,আলোচনা সমালোচনা শেষে আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি দেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আসন্ন সে নির্বাচনেও ভোটের মাঠে নেই নয় দল। অন্তবর্তী সরকার দেয়া কার্যক্রম নিষেধাজ্ঞায় ভোটের ট্রেনে নেই দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ।
তবে সাধারণ মানুষ বলছে,অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে অংশগ্রহণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন আয়োজনে সকল দলকে সুযোগ দেয়ার কথা।
রাজনীতির মাঠের বড় দল বিএনপির বলছে, কোন দল নির্বাচনে অংশগ্রহন করবে কি করবে না সে সিদ্ধান্ত একান্তই সরকারের।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার কোন যৌক্তিকতা নেই।
রাজনৈতিক দল গুলোর নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত কখনো কখনো যেমন জনপ্রিয় ও ফলপ্রসূ হয়েছে। তেমনি কোনটি আবার কেবলই হুংকারে পরিণত হয়েছে।
পড়ুন : নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসছেন ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক


