ভোলা-৪ (চরফ্যাশন ও মনপুরা) নির্বাচনী আসনের জামায়াতের মনোনীত ও ইসলামী ও সমমনা ১১দলীয় জোটের সমর্থিত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মোস্তফা কামাল।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক বিষয়ে কথা হয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মো. মোস্তফা কামালের সাথে। নাগরিক টিভি’র মুখোমুখি হয়ে তিনি নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন
নাগরিক টিভি’র
চরফ্যাশন প্রতিনিধি এম লোকমান হোসেন।
✪✪পরিচিত :প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মোস্তফা কামাল–পিতা : মৌলভী মুসলিম,মাতা : আক্তারা বেগম, শিক্ষাগত যোগ্যতা : কামিল (হাদিস), দুই ছেলে, দুই মেয়ে,বড় ছেলে আরিফুর রহমান মুকুল আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার ক্রসফায়ার দিয়ে হত্যা করে। তিনি ভোলা জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ও জামায়াতের বরিশাল বিভাগীয় অঞ্চল টিমের সদস্য।
নাগরিক : নির্বাচনী আচরণবিধি পালনে নেতাকর্মীদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?মাওলানা মোস্তফা কামাল:নির্বাচন গণতন্ত্রের একটি পবিত্র প্রক্রিয়া। আমি শুরু থেকেই আমার সকল নেতাকর্মীকে আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা, সংযম ও শিষ্টাচার বজায় রাখার সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছি।
কোনো প্রকার সহিংসতা, প্রলোভন, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা প্রতিপক্ষকে হেয় করার রাজনীতি আমি সমর্থন করি না। আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারেও আমি কঠোর অবস্থানে আছি।
আমার বিশ্বাস, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই জনগণের প্রকৃত মতামত প্রতিফলনের একমাত্র পথ।
নাগরিক : আপনার এলাকার ভোটারদের জন্য আপনার নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি কী?
মাওলানা মোস্তফা কামাল :আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কেন্দ্রবিন্দু হবে—ন্যায়ভিত্তিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা। ধর্ম বর্ণ দলমতবনির্বিশেষে সকল মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমার প্রথম কাজ।
প্রথমত, নদীভাঙন ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে টেকসই বাঁধ, আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা।
দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্যসেবায় জনভোগান্তি কমাতে কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।
তৃতীয়ত, শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিটি ইউনিয়নে মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।
জীবিকাভিত্তিক কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সর্বোপরি, জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক, সহজপ্রাপ্য ও দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
নাগরিক : জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
মাওলানা মোস্তফা কামাল :
জুলাই সনদ একটি ঐতিহাসিক ও সংবিধানিক গুরুত্বসম্পন্ন দলিল। এ বিষয়ে গণভোট আয়োজনের প্রশ্নে আমার অবস্থান হলো—জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তি হওয়া উচিত।
গণভোটে আমার স্পষ্ট অবস্থা হ্যাঁ এর পক্ষে।
নাগরিক : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার প্রত্যাশা কী?
মাওলানা মোস্তফা কামাল :
আমার প্রত্যাশা—এই নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক। জনগণ যেন ভয়মুক্ত পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যেন প্রকৃত অর্থেই জনগণের আস্থার প্রতিফলন হন। আমি আশা করি, এই নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি আরও সুদৃঢ় করবে এবং বিভাজনের রাজনীতির পরিবর্তে জাতীয় ঐক্য ও নৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য,ভোলা-৪ আসনটি চরফ্যাশন মনপুরা উপজেলা নিয়ে গঠিত। এটি জাতীয় সংসদের ১১৭ নম্বর আসন। জানুয়ারী ২০২৬ এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী এখানে এবার ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ২০হাজার ২৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার: ২লাখ ৬২হাজার ৮৪৩ জন, নারী ভোটার: ২লাখ৩৯হাজার ১৭৬ জন এবং হিজড়া ভোটার: ৭ জন।


