চাল বাজারজাতকরণে পাটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে আইন করা হলেও তা মানছেন না চাঁপাইনবাবগঞ্জের চালকল মালিকেরা। দেশের অন্যতম চাল উৎপাদনকারী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের অটো রাইস মিলগুলোতে অবাধে চলছে প্লাস্টিকের বস্তার ব্যবহার। দেড় দশক আগে খাদ্যশস্য, চিনি, সারসহ ১৭টি পণ্য সরবরাহ ও বাজারজাতকরণে পাটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। প্রণয়ন করা হয়েছে ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০’। তবে এ নিয়ম মানছে না চাল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এমন পরিস্থিতিতে হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে দায় সেরেছে পাট উন্নয়ন অধিদপ্তর।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় থেকে প্রচার করা সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পলিথিন ব্যাগ ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে প্রস্তুত ডব্লিউপিপির মোড়ক ব্যবহারে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়। এটি ১০০ বছরেও পচে না। এসব কৃত্রিম দ্রব্য মাটির গুণাগুণের ব্যাপক ক্ষতি করে। অপরদিকে পাটজাত মোড়ক বারবার ব্যবহারযোগ্য, সহজে পচনশীল, পরিবেশবান্ধব এবং স্বাস্থ্যকর।
চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানে নিষিদ্ধ প্লাস্টিকের বস্তায় চাল বিক্রি করা হচ্ছে। পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা বলেছেন, চালকল ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা প্লাস্টিকের বস্তায় চাল সরবরাহ করায় তাদের সেই বস্তাতেই চাল বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে সাশ্রয়ী মূল্যে পাটের বস্তা পেলে ব্যবহার করতে আপত্তি নেই তাদের।
তথ্যমতে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই শতাধিক চালকল রয়েছে। এসব চালকলে দৈনিক গড়ে প্রায় ১৭ হাজার মেট্রিক টন চাল উৎপাদন করে প্লাস্টিকের বস্তায় মোড়কীকরণ করা হয়। পরে এই চাল বিক্রি হয় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে।
জেলা পাট উন্নয়ন অফিসের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে- গত ১৫ মাসে মাত্র ৯টি প্লাস্টিক বস্তার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ১০টি মামলায় ৭৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
চালকল মালিকদের দাবি, প্যাকেজিং খরচ কমাতে প্লাস্টিকের বস্তায় চাল বাজারজাত করা হয়। ৫০ কেজির একটি পাটের বস্তার দাম রমকভেদে ৫০ থেকে ৫৭ টাকা, সেখানে সর্বোচ্চ ২৫-৩০ টাকা দিলেই পাওয়া যায় একটি প্লাস্টিকের বস্তা। সে কারণে ব্যবসায়ীরা প্লাস্টিকের বস্তায় চাল বিক্রি করছেন।
পাটের বস্তা সরবরাহকারীরা বলছেন, চালকল মালিক ও ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন অজুহাতে প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহার করছেন। পাটের বস্তা ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নজরদারি দাবি করেন তারা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা অজিত কুমার রায় বলেন, প্লাস্টিকের বস্তায় চাল বাজারজাত আইনের লঙ্ঘন। এসবের বিরুদ্ধে প্রতি মাসেই বিভিন্ন চালকলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে আমরা যে স্বাধীন; তাও না। আমাদের কিছু প্রতিবন্ধকতাও আছে। এর মধ্যেও আমরা চালকলে প্লাস্টিকের বস্তাবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে থাকি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান বলেন, প্লাস্টিকের বস্তায় চাল বিক্রির বিরুদ্ধে আমরা অভিযানে যাবো। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনায় চালকলগুলোয় অভিযান পরিচালনা করা হয়। চালকল মালিকদের অনেক বোঝানো হয়েছে। এরপরও তারা আইন না মানলে আমরা অভিযান চালাবো। এমন অভিযান দু-একদিনের মধ্যেই হতে পারে।
পড়ুন: জয়পুরহাট জেলা ক্রীড়া সংস্থার এ্যাডহক কমিটি সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন
দেখুন:শেরপুরে দশানী নদীর ভাঙনে বিলীন এক কিলোমিটার এলাকা
ইম/


