বিজ্ঞাপন

নেত্রকোনায় আশ্রয়ণ প্রকল্পে আ.লীগ নেতার দখলদারিত্ব, বঞ্চিত প্রকৃত উপকারভোগীরা

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় বলাইশিমুল ইউনিয়নের লস্করপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে ভূমিহীন হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত ঘরগুলো এখন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার দখলে। ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু জাহেদ নিজের পরিবার নিয়ে সরকারি অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্পের একটি ঘরে বসবাস করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, লস্করপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পে বরাদ্দ পাওয়া পাঁচটি ঘরের মধ্যে প্রকৃত উপকারভোগী হিসেবে বসবাস করছেন মাত্র দুইজন- ছখিনা ও ইসলাম উদ্দিন। অপরদিকে, বরাদ্দপ্রাপ্ত বায়েজিদ মিয়াকে ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। তার ঘরসহ অন্যান্য ঘরগুলো দখলে রেখেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবু জাহেদ।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, আবু জাহেদ সাবেক সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিল ও তাঁর স্ত্রী অপু উকিলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। সেই প্রভাব খাটিয়ে তিনি পুরো ওয়ার্ডে কর্তৃত্ব চালিয়ে এসেছেন। লস্করপুরে জেলা পরিষদের একটি পুকুরও দীর্ঘদিন ধরে তার দখলে রয়েছে। বর্তমানে তিনি ওই পুকুরপাড় মাটি ফেলে ভরাট করে নিচ্ছেন বলেও এলাকাবাসীর অভিযোগ।

প্রকল্পে বসবাস বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আবু জাহেদ স্বীকার করে বলেন, আমি দুই-তিন মাস ধরে এখানে থাকছি। কোনো সরকারি অনুমতি নেই। শুধু ওয়ার্ড মেম্বারকে বলেছিলাম।

তবে ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. কেনু মিয়া বলেন, আমি তাকে থাকার অনুমতি দেইনি। আওয়ামী লীগের সময় থেকেই তিনি সেখানে রয়েছেন।

এ বিষয়ে বলাইশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক সাহাদাৎ হোসেন বলেন, আমি বিষয়টি আগে জানতাম না। খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, ভুক্তভোগীরা জানান, এ বিষয়ে গত ৮ জানুয়ারি কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন, আমি বিষয়টি জানতাম না। এখন অবগত হয়েছি। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এলাকাবাসীর দাবি, দখলদারদের হাত থেকে প্রকল্পের ঘরগুলো উদ্ধার করে প্রকৃত ভূমিহীন ও অসহায় পরিবারের হাতে হস্তান্তর নিশ্চিত করুক প্রশাসন। অন্যথায় এই প্রকল্প তার মূল উদ্দেশ্য হারাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সচেতন মহল।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : নেত্রকোনায় ঔষধ ভেবে কীটনাশক সেবন, বৃদ্ধার মৃত্যু

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন