নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার আসমা ইউনিয়নের উজানগাঁও গ্রামে ঝড়ে ভেঙে পড়া গাছের ডাল কুড়ানোকে কেন্দ্র করে এক দম্পতিকে মারধর ও তাদের বসতঘরে আসবাবপত্রে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে আপন চাচাতো দেবরদ্বয় ও চাচা শ্বশুর-শ্বাশুরীর
বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গেলে দেখা যায়, ঘরের আলমারি ও শোকেসের কাঁচ ভাঙচুর করা হয়েছে। মেঝেতে পড়ে আছে টেলিভিশন, চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কাপড়চোপড় ও প্রসাধন সামগ্রী।
এরআগে গত ১৬ ও ১৭ মার্চ দুদফায় হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ তাসলিমা আক্তার (২১) আহত হয়েছেন এবং তাদের ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী তাসলিমার স্বামীর রাসেল মিয়ার অভিযোগ, হামলাকারীরা সুযোগ পেয়ে ঘরের ভেতর তাণ্ডব চালিয়েছে এবং গরু বিক্রির নগদ ৬০ হাজার টাকা ও দুই ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে।
অভিযুক্তরা হলেন, একই গ্রাম ও প্রতিবেশি শফিকুর রহমান, তার বাকপ্রতিবন্ধী স্ত্রী আসমা বেগম এবং তাদের দুই ছেলে হৃদয় (২০) ও বিল্লাল (১৮)। তার সকল ভুক্তভোগীর তাসলিমা আক্তারের চাচা শ্বশুর-শাশুরী ও চাচাতো দেবর।
তাসলিমা আক্তার ও তার স্বামী মো. রাসেল মিয়ার সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের সাথে শফিকুর রহমানের আগে থেকেই জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। গত ১৬ মার্চ (সোমবার) সকালে ঝড়ের পর বাড়ির পাশে গাছের ডাল কুড়াতে যান তাসলিমা। এসময় শফিকুর রহমানের বাকপ্রতিবন্ধী স্ত্রী আসমা বেগমের সাথে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আসমা বেগম তাসলিমাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও আঁচড় দিয়ে আহত করে। তাসলিমার মুখমণ্ডল, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
প্রথম দিনের মারধরের ঘটনায় রাসেল মিয়া থানা পুলিশকে অবগত করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অভিযুক্তরা। পরেরদিন ১৭ মার্চ (মঙ্গলবার) ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে শফিকুর রহমানের দুই ছেলে হৃদয় ও বিল্লাল লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাসেল ও তাসলিমার ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করে।
প্রাণ বাঁচাতে ওই দম্পতি দৌঁড়ে গিয়ে প্রতিবেশী ও চাচাতো ভাই আ. খালেকের ছেলে নুর আমিন ও মো. সাইফুলের বাড়িতে আশ্রয় নেন। আশ্রয়দাতা নুর আমিন ও সাইফুল জানান, ইফতারের আগে রাসেলকে ধাওয়া করতে করতে হৃদয় ও বিল্লাল তাদের বাড়ির দিকে আসছিল। তারা রাসেল ও তাসলিমাকে নিজেদের ঘরে আশ্রয় দিয়ে হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন।
ঘটনার পর বুধবার বিকেলে অভিযুক্তদের বাড়িতে গেলে তাদের বসতঘর তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। তবে অভিযুক্তদের আত্মীয় (চাচা/ভাই) আবুল কাশেমের সাথে কথা বললে তিনি রাসেলকে ধাওয়া করার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে বসতঘরে ভাঙচুর বা লুটপাটের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজমুল হোসেন (ময়না মেম্বার) জানান, তিনি বিষয়টি জানার পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন এবং উভয় পক্ষকে বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, “যেহেতু এটি তাদের পারিবারিক বিষয়, তাই আমি স্থানীয়ভাবে গ্রামের মুরব্বিদের নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করার কয়েক দফা উদ্যোগ নিয়েছি।”
বারহাট্টা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজহারুল ইসলাম জানান, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি এবং তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
বর্তমানে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উজানগাঁও গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
পড়ুন : নেত্রকোনা থেকে দুবাই: তরুণ উদ্যোক্তা ফায়জুলের গোল্ডেন ভিসা জয়


