বিজ্ঞাপন

নেত্রকোনায় জমি দখলে ব্যর্থ হয়ে কুপিয়ে জখম, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের সশস্ত্র হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। মধ্যরাতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা জমিতে জোরপূর্বক ঘর তোলার চেষ্টা এবং বাধা দেওয়ায় বর্বর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করার পাশাপাশি বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে মো. কাবিল মিয়া (৩৫) বাদী হয়ে ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচ জনকে আসামি করে কলমাকান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এর আগে, বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার কলমাকান্দা সদর ইউনিয়নের চান্দুয়াইল কান্দাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, চান্দুয়াইল মৌজায় ৬২ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাবিল মিয়ার পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী মৃত দুদু মিয়ার ছেলে মো. রূপচান মিয়া (৬০) গংদের বিরোধ চলে আসছিল। জমিটির মালিকানা দাবি করে কাবিল মিয়ার পরিবার আদালতে মামলা দায়ের করলে, আদালত ওই জমিতে প্রতিপক্ষের প্রবেশের ওপর চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা জোরপূর্বক জমি দখলের পায়তারা চালিয়ে আসছিল।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রূপচান মিয়ার নির্দেশে একদল লোক রামদা, লোহার রড, টেঁটা, কাঠের রুল ও বাঁশের লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কাবিল মিয়ার নতুন ভিটাবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে ঘর উত্তোলনের চেষ্টা চালায়। এসময় কাবিল মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রতিবাদ করলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে হামলা চালায়।

হামলায় অভিযুক্ত গাজী মিয়া, আব্দুল কুদ্দুছ ও মোফাজ্জল হোসেন ধারালো রামদা দিয়ে কাবিল মিয়ার বোন মমিনা খাতুনের (৩৬) মাথায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। তাকে বাঁচাতে গেলে ভাগনে সায়মন মিয়াকেও (১৩) রামদা দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। এছাড়া মা সানোয়ারা খাতুন (৫৩) ও আরেক ভাগনে আলী ইসলামকে (২০) লোহার রড ও কাঠের রুল দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর হাড়ভাঙ্গা জখম করা হয়।

হামলা চলাকালীন অভিযুক্ত মাজেদা আক্তার ও নুরনাহার বেগম আহতদের গলায় থাকা প্রায় চার লাখ পাঁচ হাজার টাকা মূল্যের দুটি স্বর্ণের চেইন এবং জাহাঙ্গীর মিয়া ২৮ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মারধর ও লুটপাটের পর আসামিরা চলে যাওয়ার সময় বসতবাড়ির লাগোয়া খড় ও গরুর গোয়াল ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরে ভুক্তভোগীদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। ফায়ার সার্ভিসের একটি দল এসে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় চারজনকে উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সংযুক্ত ছবিতে আহত নারী ও শিশুর মাথা এবং শরীরে ধারালো অস্ত্রের গভীর ও ভয়াবহ ক্ষতের রয়েছে।

মামলার খবর পেয়ে অভিযুক্ত রূপচান মিয়া ও তার সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন জানান, ‍“জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মারামারি ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ভুক্তভোগী কাবিল মিয়া বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মামলা নথিভুক্ত করার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।”

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : কেন্দুয়ায় বিএনপির পরিচ্ছন্নতা অভিযান, আটপাড়ায় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন