১০/০২/২০২৬, ৬:৪১ পূর্বাহ্ণ
17 C
Dhaka
১০/০২/২০২৬, ৬:৪১ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

নেত্রকোনায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা: যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা


নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে নির্যাতন ও ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গৃহবধূ সনি আক্তার (৩৬) তিনি তার স্বামী যুবলীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে সোহাগকে (৪০) আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।

অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে মো. সোহাগ মিয়া (৩৮) উপজেলার বরকাশিয়া গ্রামের নুর আহম্মদের ছেলে। সোহাগ উপজেলা যুবলীগের সদস্য।

ভুক্তভোগী সনি আক্তার উপজেলার গৌড়াকান্দা গ্রামের মৃত সবুজ মিয়ার মেয়ে। তিনি তিন সন্তানের জননী। সনি স্থানীয় একটি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম মামলা নথিভুক্ত করার বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আসামি পলাতক, তাকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

এরআগে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে গতকাল শনিবার রাতে ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। পরপরই অভিযোগটি থানায় নথিভুক্ত করা হয়।

​অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সোহাগের (৩৮) সাথে দীর্ঘ ১৫ বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় সনি আক্তারের। তাদের সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সনি আক্তারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামী সোহাগ নেশাগ্রস্ত ও জুয়ারি প্রকৃতির হয়ে ওঠেন এবং প্রায়ই ৫ লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবিতে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।

​নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত কয়েক মাস ধরে সনি আক্তার তার সন্তানদের নিয়ে হাসপাতাল রোড এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। গত ২৮ জানুয়ারি বিকেলে সোহাগ ওই বাসায় গিয়ে পুনরায় যৌতুকের টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় ভুক্তভোগকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে সোহাগ পকেট থেকে ধারালো ছুরি বের করে হত্যার উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগীর গলায় পোঁচ মারলে তা যথাস্থানে না লেগে গালে লাগলে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন।

​ঘটনার সময় সনি আক্তারের ভাই গোলাম মোর্শেদ বাধা দিতে এলে তাকেও এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করা হয়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত সোহাগ তাদের প্রাণে মেরে ফেলার এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।

​আহত ভুক্তভোগী ও তার ভাইকে প্রথমে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সনি আক্তারকে মমেক হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সুস্থ হয়ে গৃহবধূ নিজে বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, “বিয়ের পর থেকেই তার স্বামী তাকে যৌতুকের জন্য মারধর করত। সম্প্রতি তাকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেছে এবং আমাদের ভরণপোষণ বন্ধ করে দিয়েছে। সেদিন তাকে মেরেই ফেলতে চেয়েছিল।”

অভিযুক্ত স্বামী সোহাগ মিয়া নিজেকে যুবলীগ নেতা দাবি করে জানান, গতরাতে তার (সোহাগ) বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে হাইকোর্ট থেকে জামিন নেওয়ার প্রক্রিয়ায় আছেন। স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা বা গলা কাটার অভিযোগের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। তিনি স্বীকার করেছেন প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। পাঁচ লক্ষ টাকা যৌতুক চাওয়ার অভিযোগটি তিনি পরোক্ষভাবে নাকচ করেছেন।

ছয় মাস আগে স্ত্রী মামলা করলে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা ও স্বর্ণ দিয়ে তা মীমাংসা করছেন বলে জানান সোহাগ মিয়া। স্ত্রী’র বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করে তিনি দাবি করেন, তার স্ত্রী পরকীয়ায় লিপ্ত, ঢাকা-ময়মনসিংহ যাতায়াত করে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : নেত্রকোনায় ৭২ কেজি গাঁজাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেফতার

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন