বিজ্ঞাপন

নোয়াখালীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভুয়া বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষক নিয়োগ’সহ দুর্নীতির অভিযোগ

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার হেদায়েত হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ কামারুল ইসলাম কচি’র বিরুদ্ধে ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখিয়ে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া’সহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগকারী মানিক লাল দাস, যিনি ১৯৯৯ সালের ১ মার্চ থেকে ২০২৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিদ্যালয়টিতে সহকারী শিক্ষক (বি.এস.সি, গণিত) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি গত ১১ মার্চ দুদকের নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক বরাবর দেওয়া এক লিখিত অভিযোগে এসব তথ্য তুলে ধরেন।

অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে মোহাম্মদ কামারুল ইসলাম বিদ্যালয়ে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীতে তাকে চাকরি থেকে অপসারণের হুমকি দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না এবং অনেক সময় অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় পুরো মাসের উপস্থিতি একদিনে প্রদান করেন। হাজিরা খাতা নিজের জিম্মায় রেখে শিক্ষকদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগও করা হয়েছে।

এছাড়া সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম-ক্যাটালগার পদে নিয়োগ কার্যক্রম এনটিআরসি’এর অধীনে চলে যাওয়ার পরও ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখিয়ে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে একজনকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষক স্থানীয় কমিটি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও তাদের “এরিয়া বেতন” দেখিয়ে ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে রাজস্ব তহবিল থেকে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৮২৪ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ চারজন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসাব প্রদান না করে বিভিন্ন খাতের অর্থ আত্মসাৎ, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়, সরকারি বরাদ্দের কাজ নিম্নমানেরভাবে সম্পন্ন করা এবং একই কাজের ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বিদ্যালয়ের দুটি ক্যাম্পাস থাকলেও এর একটির কোনো বৈধ অনুমোদন নেই। সরকারের অনুমতি ছাড়াই অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে নতুন ক্যাম্পাস চালু করা হয়েছে। এসব অনিয়মে বিদ্যালয়ের আরও দুই শিক্ষক সহযোগিতা করছেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।

প্রধান শিক্ষকের এসব দুর্নীতি ও অনিয়মে তার প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ছায়েদল হক এবং মহর লাল দাস এমন অভিযোগ তুলে অভিযোগকারী মানিক লাল দাস দাবি করেন, এসব দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয় এবং একপর্যায়ে জীবননাশের আশঙ্কায় এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। এমনকি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তার শিক্ষকতার ইনডেক্সও বাতিল করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ কামারুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

পড়ুন- নির্বাচনের কোটি টাকার বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ কুমিল্লার ডিসি ও এডিসির বিরুদ্ধে

দেখুন- অবৈধ পার্কিংয়ে সীতাকুণ্ডে মহাসড়কে গাড়ির দীর্ঘ সারি

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন