নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে দখল-চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় সাহাব উদ্দিন (৫০) নামে বিএনপির এক নেতার ওপর হামলা ও গলাকেটে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে যুবদলের কর্মীদের বিরুদ্ধে। তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার (১৭ আগস্ট) বিকেলে বসুরহাট হাসপাতাল রোডের সিটি হসপিটালের সামনে এই ঘটনা ঘটে। সাহাব উদ্দিন চরএলাহী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ওই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাফেজ আহম্মদের ছেলে।
আহত সাহাব উদ্দিনের ভাই বেলাল হোসেন বলেন, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি এবং তার ভাই সাহাব উদ্দিন সিটি হসপিটাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বের হলে চরএলাহী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য ইব্রাহিম তোতা, ইসমাইল তোতা, সাব্বির ও বাহাদুরসহ ২০-২৫ জন দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অর্তকিত হামলা চালিয়ে সাহাব উদ্দিনকে ক্ষুর (ধারালো ছুরি) দিয়ে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করে। এসময় তাকে বাঁচাতে গেলে তিনিও আহত হন। পরে স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাহাব উদ্দিনকে উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জেলা সদরের জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
বিএনপি নেতা সাহাব উদ্দিনের স্ত্রী পারভীন বেগম বলেন, হামলাকারীরা চরএলাহী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত আবদুল মতিন তোতার ছেলে ও তাদের সঙ্গীয় সন্ত্রাসী। গত বছরের ৩০ আগস্ট সন্ত্রাসী হামলায় তোতা নিহত হন। ভুক্তভোগী সাহাব উদ্দিন ওই হত্যার ঘটনায় কোনভাবেই যুক্ত না থাকলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলার আসামী করা হয়। ওই মামলায় সম্প্রতি তিনি কারাগার থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় আসেন। ওই ঘটনার জেরে তোতা চেয়ারম্যানের ছেলেরা আজ তাকে জবাই করে হত্যা চেষ্টা করে। তিনি এই ঘটনার বিচার দাবি করেন।
এদিকে, এই ঘটনায় হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে সন্ধ্যায় বসুরহাটে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা বিএনপি নেতা ও ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান মো. ফখরুল ইসলাম।
আহত বিএনপি নেতা সাহাব উদ্দিনকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, চরএলাহীর তোতা চেয়ারম্যানের ছেলেরা ৫ আগস্ট পরবর্তী এলাকায় ঘাট দখল ও চাঁদাবাজি করে আসছে। এসবের প্রতিবাদ করায় আজ (রোববার) বিএনপি নেতা সাহাব উদ্দিনকে তারা হত্যা চেষ্টা করেছে। অবিলম্বে এ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি।
এদিকে, হামলা ও হত্যা চেষ্টার বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্ত ইসমাইল তোতা বলেন, আজ দুপুর থেকে তিনি ও স্থানীয় বিএনপি নেতা নুরুল হুদা মাস্টার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এক সাবেক ছাত্রদল নেতাকে দেখতে মাইজদীতে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে তার ভাই সাব্বির ও সবুজ জেলার বাহিরে রয়েছেন। বিকালে তার ভাই ইব্রাহিম তোতা চিকিৎসার জন্য বসুরহাট যাওয়ার পথে বিএনপি নেতা ফখরুল ইসলামের বাসার সামনে তার ওপর হামলা চালায় সাহাব উদ্দিন ও তার লোকজন। এই তিনি আত্মরক্ষার্থে একটি চায়ের দোকানে অবস্থান নিলে তারা সেখানেও তার ওপর হামলা করে। এসময় সাহাব উদ্দিনের হাতে থাকা ক্ষুর দিয়ে ইব্রাহিমকে আঘাতের চেষ্টা করলে ইব্রাহিম বাঁধা দিতে গেলে উল্টো সাহাব উদ্দিন আঘাতপ্রাপ্ত হন।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মাদ ফৌজুল আজিম বলেন, বিষয়টি জানার পর সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। এই ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পড়ুন:নোয়াখালীতে যুবকের লাশ উদ্ধার, পরিবারের দাবি পরকিয়ায় বাঁধা দেওয়ায় হত্যা


