32.3 C
Dhaka
০৭/০৩/২০২৬, ১৪:৪৬ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে সচিবকে ঘিরে বিতর্ক, ক্ষোভে ফুঁসছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে দাপ্তরিক পরিবেশ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পদোন্নতি পাওয়া সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরীর নাম।

মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগ, তার নেতৃত্বে দপ্তরে স্বেচ্ছাচারিতা, অসদাচরণ ও ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে নীতিনির্ধারণী ও দৈনন্দিন প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে।

অভিযোগকারীরা দাবি করেন, দপ্তরে সামান্য ভুলত্রুটি বা মতভিন্নতার ক্ষেত্রেও কঠোর আচরণ, বদলি এবং চাকরি হারানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ফলে কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাদের ভাষ্য, গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিষ্পত্তি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অযথা বিলম্ব হচ্ছে, যা মন্ত্রণালয়ের সামগ্রিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি করছে।

ড. নূরুন্নাহারের অতীত পদোন্নতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা। তাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার কারণে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১৭তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। এরপর সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নূরুন্নাহার সচিব পদে পদোন্নতি লাভ করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামালের স্থলাভিষিক্ত হন। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।

এ প্রসঙ্গে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা শায়লা ফারজানা-এর নামও আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি একটি অনানুষ্ঠানিক কর্মকর্তা-গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যা সরকারপন্থী অবস্থান জোরদারে সক্রিয় ছিল।

সমালোচকদের দাবি, ওই গোষ্ঠীতে নির্দিষ্ট মতাদর্শের বাইরে থাকা কর্মকর্তাদের স্থান দেওয়া হতো না এবং সদস্যদের দ্রুত পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হতো। 

অভিযোগে আরও বলা হয়, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম-এর প্রভাববলয়ের বিষয়টিও প্রশাসনিক অঙ্গনে আলোচিত ছিল। যদিও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ফয়জুল কবীর এবং আলী ইমাম মজুমদার-এর নাম উল্লেখ করে কিছু কর্মকর্তা দাবি করেছেন, তাদের হস্তক্ষেপে ১৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা হয়েও ড. নূরুন্নাহার সচিব পদে উন্নীত হন। একই সময়ে তার স্বামী জিয়াউল হকও সচিব পদে পদোন্নতি পান এবং পৃথক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পান।

তবে প্রশাসনের একটি অংশ বলছে, সচিব পদে পদোন্নতি ও পদায়ন সরকারি বিধি-বিধান মেনেই সম্পন্ন হয় এবং রাজনৈতিক বিবেচনার অভিযোগ প্রায়ই ওঠে, যা সবসময় সত্য নাও হতে পারে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মন্ত্রণালয়ের ভেতরে চলমান এ অসন্তোষ নিরসনে কার্যকর তদন্ত ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রয়োজন।  অন্যথায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা আরও প্রকট হতে পারে। 

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরীকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তার মুঠোফোন নম্বরে এসএমএস পাঠিয়েও অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন :

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন