জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মরহুম সাইফুল ইসলাম তোতার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১০ মার্চ। ২০২৩ সালের এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেন। দিনটি উপলক্ষে তাঁর পরিবার, স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও এলাকাবাসী মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।
মরহুম সাইফুল ইসলাম তোতা ছিলেন চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের একজন সুপরিচিত ও প্রভাবশালী সমাজনেতা। চরগোয়ালিনী ও চরপুটিমারী ইউনিয়নের অংশ নিয়ে গঠিত ডিগ্রীরচর গ্রামে তাঁর সামাজিক প্রভাব ছিল অত্যন্ত দৃঢ়। স্থানীয় বিচার-সালিশে তিনি ন্যায়পরায়ণতা ও দৃঢ়তার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। এলাকার মানুষ বিভিন্ন সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে তাঁর শরণাপন্ন হতেন এবং তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মানের সঙ্গে মেনে নিতেন।
তিনি ছিলেন একজন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি। জীবদ্দশায় তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিশেষ করে জামিয়া মফিজিয়া মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ডিগ্রীরচর উচ্চ বিদ্যালয়সহ এলাকার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে শিক্ষা বিস্তারে অবদান রাখেন।
শিক্ষাক্ষেত্রের পাশাপাশি সমাজ উন্নয়নেও তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। ডিগ্রীরচর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি আংশিক জমি দান করেন। এছাড়া চরগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের জন্য জমি দান করে ইউনিয়ন পরিষদের ভবন নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নানা প্রতিকূলতা ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি পরিষদের ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে সহায়তা করেন।
১৯৯১ সালে ডিগ্রীরচর বাজারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজনৈতিক কারণে তাঁকে আসামি করা হয়। স্থানীয়দের মতে, ওই ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকলেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাঁকে জেল-জুলুম ভোগ করতে হয় এবং জীবনের কয়েকটি বছর কারাভোগ করতে হয়েছে।
পারিবারিক জীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত স্নেহশীল ও দায়িত্বশীল একজন মানুষ। তিনি ১৯৬০ সালের ডিসেম্বর মাসে জন্মগ্রহণ করেন। ১১ ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয় সন্তান। চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের মৃত মবেদ আলীর সন্তান হিসেবে তিনি পারিবারিকভাবে সবার সঙ্গে গভীর সখ্যতা বজায় রেখেছিলেন।
বৈবাহিক জীবনে তিনি ছয় সন্তানের জনক। সন্তানদের উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা ও আদর্শিক মূল্যবোধে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
আজ তাঁর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবারসহ এলাকাবাসী গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছেন। মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের কাছে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া প্রার্থনা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন—এটাই সবার প্রত্যাশা।
পড়ুন:চরকিতে আসছে নতুন অরিজিনাল সিরিজ ‘ক্যাকটাস’
দেখুন:নওগাঁ নির্বাচনী জনসভায় যা বললেন জামায়াত আমির
ইমি/


