গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের চিকিৎসা ও সার্জারির যন্ত্রপাতির চাহিদাপত্র (এমএসআর) এবং পথ্য সামগ্রীর দরপত্র যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পছন্দের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে বিধিবহির্ভূতভাবে এ কাজ করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ দিবাকর বসাক। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মেসার্স স্বর্ণা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোঃ শাহাদত হোসেন খন্দকার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাঃ দিবাকর বসাক নিয়মবহির্ভূত ভাবে সরকারি ক্রয়বিধিমালা (পিপিআর) ২০২৫ অনুসরণ না করে ২০০৮ অনুসরণ করে দরপত্র যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
পিপিআর ২০২৫-এর বিধি ১৫৪ ধারায় স্পষ্ট উল্লেখ আছে পিপিআর ২০২৫ জারি হওয়ার পর নতুন নীতিমালা অনুসরণ করে ক্রয়কার্যের সকল ধাপ প্রতিপালন করতে হবে। কিন্তু তিনি তা না করে পিপিআর ২০২৫-এর বিধি ১৫৪ ধারার নির্দেশনা অমান্য করেছেন। এ ছাড়াও অভিযোগে উল্লেখ আছে, দরপত্র প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ডাঃ দিবাকর বসাক সেই প্রতিনিধি ছাড়া দরপত্র যাচাই সভা করেছেন এবং তাঁর মদদপুষ্ট হয়ে দরপত্র যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়ন কমিটির কয়েকজন সদস্য নিজেদের ও দিবাকর বসাক’র ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে প্রভাব খাটাচ্ছেন।
অভিযোগকারী মোঃ শাহাদত হোসেন খন্দকার বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে গাইবান্ধা জেলার সহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মানসম্মত এমএসআর সামগ্রী সরবরাহ করে আসছি। এবারও দরপত্রে কম মূল্যে গুণগত মানসম্মত এমএসআর সামগ্রী সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা গত ১৮ অক্টোবর ২০২৫ ইং তারিখে এক পত্রে কম মূল্যে দরপত্র দাখিল করার যুক্তি সংগত কারণসহ জবাব প্রদান করতে বলেছেন।
এদিকে মোঃ শাহাদত হোসেন খন্দকারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ রফিকুজ্জামান স্বাক্ষরিত ২১ অক্টোবর ২০২৫ ইং তারিখের এক পত্রে পিপিআর ২০২৫ না মেনে পিপিআর ২০০৮ এর আলোকে যাচাই বাছাই/ মূল্যায়ন এবং পিপিআর ২০২৫ এর ১৫৪ বিধি অমান্য করা ও দরপত্র যাচাই বাছাই/মূল্যায়ন কমিটি তাদের সাথে সুসম্পর্কীয় ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টার বিষয়ে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন তা অবহিত করতে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার দিবাকর বসাককে নির্দেশ প্রদান করেছেন। ওই পত্রে আরো বলা হয়েছে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যে কোনো জটিলতা দেখা দিলে তার দায়ভার আপনাকেই (দিবাকর বসাক) বহন করতে হবে।
এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ দিবাকর বসাকের সাথে। তিনি বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান আছে। চলমান অবস্থায় পিপিআর এর বিধান অনুযায়ী কোনো তথ্য দেবার সুযোগ নেই। ই-জিপি টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটি কর্তৃক পিপিআর বিধিমালা ও ইজিপি গাইডলাইন মেনেই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পড়ুন: নারায়ণগঞ্জের বিসিকে কারখানায় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৬ শ্রমিক
দেখুন: নির্বাচন বানচালে অশুভ শক্তির নোংরা প্রচেষ্টা দৃশ্যমান হচ্ছে: তারেক রহমান
ইম/


