পঞ্চগড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশব্লক নির্মাণের কাজ ফেলে গত দেড় বছর ধরে লাপাত্তা রয়েছে খায়রুল ইসলাম রোমান নামের এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
দীর্ঘদিনেও বিদ্যালয়ে ওয়াশব্লক নির্মাণ না হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে শতশত শিশু শিক্ষার্থীসহ শিক্ষক শিক্ষিকারা।ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করা এবং ৫৫ শতাংশ কাজ বাস্তবায়ন করে ৬৫ শতাংশের বিল দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। তবে বাস্তবায়নকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পঞ্চগড়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মিনহাজুর রহমান বলেন,ওই ঠিকাদার ১৬ টি প্রতিষ্ঠানের কাজ করছে, কয়েকটি কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।বাকী কাজ এক মাসের মধ্যে শেষ করার চুক্তি করে, আবার কাজ শুরু করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
শিক্ষকদের অভিযোগ,২০২৩ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত করে এর পর আর কোন কাজ হয়নি।দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মাদকাসক্তদের আড্ডা খানায় পরিনত হয়েছে ঘরগুলো।নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করছে ঠিকাদারের লোকজন,বলতে গেলে কাজ রেখে চলে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছিল নির্মাণ শ্রমিক।
সম্প্রতি সরজমিনে আটোয়ারী উপজেলার দক্ষিণ রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,বারো ঘরিয়া,জুগিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গিয়ে দেখা গেছে,ওয়াশব্লকের নির্মাণকাজ ছাদ ঢালাই করে কিছু ইটের দেওয়াল করা হয়েছে।সেপ্টি ট্যাংকির ঢাকনি নাই।নির্মাণ কাজের জন্য কিছু নিম্নমানের ইট স্থুপ করাও আছে।
জানা যায়,চতুর্থ পর্যায় প্রাইমারি শিক্ষা উন্নয়ন (পিইডিপি) প্রকল্পের আওতায় ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে ১০ টি বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লকের জন্য টেন্ডার আহবান করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পঞ্চগড়।চুক্তিমূল্য প্রায় এক কোটি ৫৮ লাখ টাকায় ঠাকুরগাঁও এলাকার খায়রুল ইসলাম রোমান নামের এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে (ওপেন টেন্ডারে) কাজ দেয় নির্বাহী প্রকৌশলী। তথ্যানুযায়ী ২০২৩ সালের ১৮ এপ্রিল কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।এক বছরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৪ সালের জুনে, ছাদ ঢালাই ও কিছু ইটের গাঁথুনি করে ৬৫ শতাংশের বিল ৯০ লাখ টাকা উত্তোলন করে ঠিকাদার।এরপর থেকে লাপাত্তা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।
বারো ঘড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লংকেশ্বর চন্দ্র সিংহ বলেন, ২০২৪ সালের জুন মাসের পর আর কোন কাজ হয়নি ওয়াশব্লকের। একই বক্তব্য ছিল মোজাহারুল ইসলামের।দক্ষিণ রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লাকী আক্তার ওয়াশব্লক ছাড়া শিক্ষক শিক্ষিকাদের শোচনীয়র কথা বলেন তিনি।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বলছে, কাজ চলমান রয়েছে ১৭ টি বিদ্যালয়ের মধ্যে চারটি বিদ্যালয়ের কাজ অসমাপ্ত ছিল।বাকীগুলো হস্তান্তরের অপেক্ষায়।
আশা করছি, আগামী এক মাসের মধ্যে সব কাজ শেষ হবে।


