বিজ্ঞাপন

পটিয়ার নববর্ষ কমিটি ঘিরে বিতর্ক—সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড়

চট্টগ্রামের পটিয়ায় বাংলা নববর্ষ উদযাপন কমিটির সমন্বয়ক হিসেবে শ্যামল দে-কে দায়িত্ব দেওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয়রা তাকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে দাবি করছেন, তিনি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ নেতাদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ছবিতে তাকে আওয়ামী লীগ ঘরানার কর্মসূচি, মানববন্ধন ও সাংগঠনিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। একটি ছবিতে তাকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলের মালা পরাতে দেখা গেছে। অন্য একটি ছবিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আয়োজিত কর্মসূচির ব্যানারের সামনে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। এছাড়া স্থানীয় কয়েকটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চেও আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট নেতাদের পাশে তাকে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সমালোচকদের দাবি, শ্যামল দে অতীতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিলেও জুলাই আন্দোলন ও ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করেন। তাদের অভিযোগ, ওই সময়ের পর তিনি বিএনপি নেতাদের আশ্রয়ে পুনরায় সক্রিয় হয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন। এ কারণে তাকে নববর্ষ উদযাপন কমিটির মতো সর্বজনীন আয়োজনের সমন্বয়ক করায় প্রশ্ন উঠেছে।

তাদের মতে, একটি সাংস্কৃতিক আয়োজনের নেতৃত্বে বিতর্কিত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকা ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিলে আয়োজনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হতে পারে। বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার পটিয়ায় বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ উপলক্ষে বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায় উদযাপন পরিষদের সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে পৌর বিএনপি নেতা তৌহিদুল আলমকে চেয়ারম্যান, জাসাস নেতা মো. নাছির উদ্দীনকে সদস্য সচিব এবং শ্যামল দে-কে সমন্বয়ক করা হয়েছে। কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন আবদুল হাকিম রানা, আবদুর রাজ্জাক, দীপক শীল ও কাজী মোরশেদ।

এ বিষয়ে শ্যামল দে-র বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। পৌর সাবেক কাউন্সিলর গোফরান রানা এক পোস্টে শ্যামল দে-কে ‘মৌসুমি রাজনীতিক’ উল্লেখ করে সময় অনুযায়ী অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগ করেন।

জসিম উদ্দিন নামে একজন মন্তব্য করেন, শ্যামল দে সুযোগসন্ধানী এবং একাধিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন। গোলাম কাদের নামে আরেকজন লিখেছেন, ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে তিনি অবস্থান বদলান। রাজিব সিং নামে একজন তাকে ‘তেলে শ্যামল’ বলে আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের অসংখ্য পোস্ট ও মন্তব্যে শ্যামল দে-কে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : মীরসরাইয়ে অবৈধভাবে ডিজেল মজুদ করে বিক্রির অপরাধে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন