১৭/০২/২০২৬, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ
19 C
Dhaka
১৭/০২/২০২৬, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

পটুয়াখালীতে উচ্চফলনশীল ব্রি ধান ১০৩ এর ফসল কর্তন ও মাঠ দিবস উদযাপন

‘কৃষিই সমৃদ্ধি, সমৃদ্ধির জন্য ধান’ স্লোগানকে সামনে রেখে পটুয়াখালীতে আমন মৌসুমে আধুনিক ও উচ্চফলনশীল ধানের জাত জনপ্রিয়করণের লক্ষ্যে ব্রি ধান১০৩ জাতের ফসল কর্তন ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে এলএসটিডি প্রকল্পের (নতুন ৬টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন) অর্থায়নে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), স্যাটেলাইট স্টেশন, পটুয়াখালী এর আয়োজনে ও পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ব্রি পটুয়াখালী নির্ধারিত পটুয়াখালী সদর উপজেলার পশুরিবুনিয়া প্রযুক্তিগ্রামে এ মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশন, পটুয়াখালীর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহম্মদ আশিক ইকবাল খান এবং সঞ্চালনা করেন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রোবায়েত নাজমুন ইভা।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোহাম্মদ আমানুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল ইসলাম মজুমদার এবং উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (পূর্ব শারীকখালী ব্লক) আকলিমা আখতার লিমা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রযুক্তি গ্রামের কৃষক সেলিম জোমাদ্দারের জমিতে এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে পরিচালিত ব্রি ধান১০৩ এর প্রায়োগিক পরীক্ষণের অংশ হিসেবে ১০ বর্গমিটার এলাকা থেকে নমুনা শস্য কাটা হয়। এতে হেক্টরপ্রতি ৬.২ টন ফলন (১৪% আর্দ্রতায়) পাওয়া যায়, যা স্থানীয় জাতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

ফসল কর্তন শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় কৃষক সেলিম জোমাদ্দার তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “এ বছর প্রথমবারের মতো আমি ব্রি ধান১০৩ আবাদ করেছি। ফলন দেখে আমি খুবই উৎসাহিত। আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে এ জাতটি আবাদ করব এবং এলাকার অন্য কৃষকদেরও প্রয়োজনীয় বীজ সরবরাহের জন্য অতিরিক্ত বীজ সংরক্ষণ করব।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপ-পরিচালক ড. মোহাম্মদ আমানুল ইসলাম বলেন, “ব্রি ধান১০৩ উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত উপযোগী একটি জাত। আধুনিক ধান উৎপাদন প্রযুক্তি ও উচ্চ ফলনশীল জাত ব্যবহারের মাধ্যমেই কৃষি হবে লাভজনক এবং দেশ হবে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ।” তিনি কৃষকদের ব্রি উদ্ভাবিত উন্নত জাতসমূহের দিকে বেশি ঝুঁকতে উৎসাহিত করেন।

সভাপতির বক্তব্যে ড. মুহম্মদ আশিক ইকবাল খান বলেন, “উচ্চ ফলন নিশ্চিত করতে এবং প্রতারণা থেকে কৃষকদের সুরক্ষিত রাখতে মানসম্মত বীজ সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজেদের উৎপাদিত ভালো বীজ নিজেরাই সংরক্ষণ করলে ফলনও বাড়বে, ব্যয়ও কমবে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। এছাড়া পশুরিবুনিয়া ও আশেপাশের এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষক-কৃষাণী মাঠ দিবসে অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনা সভা শেষে কৃষি যন্ত্রপাতির প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী পর্বে ব্রি উদ্ভাবিত আধুনিক কৃষি যন্ত্রের কার্যকারিতা, মাঠ পর্যায়ে এই প্রযুক্তির গুরুত্ব এবং কৃষকের শ্রম ও সময় সাশ্রয়ে যন্ত্রায়নের ভূমিকা সম্পর্কে উপস্থিতদের অবহিত করা হয়।

উদ্বোধন শেষে কৃষকদের মধ্যে ১টি ব্রি বীজ বপন যন্ত্র এবং ৩৮০টি চারা উৎপাদন ট্রে বিতরণ করা হয়। যন্ত্র বিতরণের পাশাপাশি কৃষকদের সামনে সরাসরি ব্যবহারিক প্রদর্শনী (ডেমোনস্ট্রেশন) করা হয়, যাতে তারা সহজেই এর কার্যপ্রণালী বুঝে নিতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : চারদফা দাবীতে পটুয়াখালীতে সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের কর্মবিরতি পালন, পরীক্ষা বন্ধ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন