বিরল ডিএমডি রোগে আক্রান্ত হয়েছে পটুয়াখালীর এক শিশু। তার চিকিৎসায় প্রয়োজন ৩৬ কোটি টাকা। তবে শিশুটির পরিবার মধ্যবিত্ত হওয়ায় চিকিৎসার ব্যয় চালানো কোন ভাবেই সম্ভব হচ্ছেনা। তাই বিত্তবানদের সহযোগীতার অনুরোধ জানিয়েছে তার পরিবারসহ এলাকাবাসী।
পটুয়াখালী পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকার রাকিব হাসান ও আফসানা মিমি দম্পত্তির একমাত্র সন্তান আবরাম তাহমিদ রুহান। সাড়ে ৭ বছর বয়সী এ শিশু প্রথম শ্রেনীর শিক্ষার্থী। তার পিতা রাকিব পৌর শহরের সিটি মার্কেটের একজন পোশাক বিক্রেতা ও মা গৃহিণী। এক বছর আগে এ শিশুর হাটা চলা করতে না পারা সহ শরীরে দুর্বলতা দেখা দেয়।
পরে অবস্থার আরও অবনতি হয় এবং প্রায় সাড়ে তিনমাস আগে জ্বরে আক্রান্ত হয়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা শেষে ঢাকার একটি বেসরকারী হাসপাতালে নিয়ে রক্ত পরীক্ষা শেষে জানতে পারেন শিশুটি বিরল ডিএমডি রোগে আক্রান্ত। পরে তার জেনেটিক পরীক্ষার জন্য স্যাম্পল ভারতে পাঠনোর পরও ডিএমডি পজেটিভ আসে। ইতিমধ্যে শিশুটির শরীর নিস্তেজ হতে শুরু করেছে। দুর্বল হতে শুরু করেছে পায়ের মাংস পেশী। হাটতে হচ্ছে পায়ের পাতার উপর ভর দিয়ে। ঠিকমতো চলাফেরা করতে ব্যাপক সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে কর্টিকোস্টেরয়েড জাতীয় ঔষধসহ ব্যয়বহুল জিন থেরাপি নিতে পারলে পেশী দুর্বলতা এবং রোগের প্রার্দুভাব কমতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
শিশু রুহান বলেন, আমি বসলে উঠতে পারিনা। স্কুলে যেতে পারিনা। অনেক সময় মাথা ঘুরায়। শিশু রুহানের মা আফসানা মিমি কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বলেন, আমার বাবা সেনাবাহিনীতে চাকুরি করে। বড় আশা ছিলো ছেলেকে সেনাবাহিনীর বড় অফিসার বানানো। কিন্তু ডিমডি নাম রোগ আমাদের সব স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিনত করেছে। আমি আমার ছেলের জন্য সবার কাছে সহযোগিতার অনুরোধ জানাচ্ছি।
রুহানের বাবা রাকিব হাসান বলেন, ঢাকার সেন্ট্রাল হসপিটালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মিজানুর রহমান বলেছে চিকিৎসায় ৩৬ কোটি টাকা লাগবে। কিন্তু আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ কিভাবে এতো টাকা জোগাড় করবো। চোখের সামনে ছেলেটি এভাবে শেষ হয়ে যাবে সেটাও মানতে পারছিনা। সমাজের বিত্তবানরা যদি একটু সহযোগিতা করতো তাহলে হয়তো ছেলেটিকে চিকিৎসা করাতে পারতাম।
পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক, শিশু ও কিশোর রোগ বিশেষজ্ঞ ডা.মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জটিল ডিএমডি রোগের উন্নত চিকিৎসা বাংলাদেশে নেই। এছাড়া এখনও সারা বিশ্বে এ রোগের সফল চিকিৎসা আবিষ্কার হয়নি। তবে কর্টিকোস্টেরয়েড জাতীয় ঔষধসহ ব্যয়বহুল জিন থেরাপি নিতে পারলে পেশী দুর্বলতা এবং রোগের প্রার্দুভাব কমতে পারে।
পটুয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফ্ফাত আরা জামান উর্মি বলেন, শিশু রুহানের বিষয়ে খোজ খবর নেয়া হয়েছে। শিশুটি বিরল ডিমএডি রোগে আক্রান্ত। শুনেছি চিকিৎসায় ৩৬ কোটি টাকা লাগবে। তবে এতো টাকা তো আসলে উপজেলা পরিষদ থেকে দেয়া সম্ভব না। তবে তাকে উপজেলা পরিষদ থেকে যথাসাধ্য সহযোগিতা করা হবে।
শিশু রুহানকে সহযোগিতা করা যাবে বিকাশ, নগদ ও রকেটের ০১৯১৭৪৯১৫৩৬ এই নম্বরে। এছাড়া ডাচ বাংলা ব্যাংকের পটুয়াখালী শাখার সঞ্চয়ী হিসাব নাম্বার-২১৮১৫৮০২১৫০১৯ এ্যাকাউন্টেও সহযোগিতা করা যাবে।
পড়ুন : পটুয়াখালীতে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন


