পটুয়াখালীতে চাঞ্চল্যকর ডাচ বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথে দস্যুতা মামালার মূল হোতাসহ একাধিক চুরি মামলার দুর্ধর্ষ চোর মোঃ জিহাদ সরদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
জাহিদ সরদার (২৮)পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের আশরাফ সরদার ও মনোয়ারা বেগমের ছেলে।
এ গ্রেফতারের ঘটনায় সদর থানায় প্রেসব্রিফিং- এ বাউফল সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার আরিফ মোহাম্মদ শাকুর জানান, গত ১৬ আগষ্ট রাত আনুমানিক ০৩:৩০ টার সময় সদর থানাধীন আদালতপাড়া সাকিনস্থ বড় মসজিদ সংলগ্ন ডাচ বাংলা ব্যাংক, ফাস্ট ট্র্যাক বুথে কর্তব্যরত সিকিউরিটি গার্ড মোঃ মজিবুর রহমান সিকদার (৫৫) ডিউটিরত অবস্থায় শুয়ে থাকাকালে অজ্ঞাতনামা ১/২ জন আসামি দস্যুতার উদ্দেশ্যে বুখে প্রবেশ করে।

আসামিরা গামছা দিয়ে তার দুই হাত বেঁধে, কম্বল দ্বারা শরীর ও মুখমন্ডল পেচিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনপূর্বক এলোপাতাড়ি মারপিট করে। এতে তার বাম কাঁধের হাড় ভেঙে যায়, বাম চোখ ও মাথায় গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। পরবর্তীতে তাকে পুরাতন আদালত ভবনের বারান্দায় ফেলে রেখে যায়। অতঃপর আসামিরা বুথের এটিএম ভাঙচুর করে টাকা নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে বুথের কেচিগেটের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে এটিএম বুথের ভিতরে থাকা DELL কোম্পানীর একটি মনিটর চুরি করে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর মারাত্মক আহত ভিকটিম নিজ উদ্যোগে মায়ো ক্লিনিকে গিয়ে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ ফোন করলে পুলিশ দ্রুত। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতায় আহত সিকিউরিটি গার্ডকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। যা এলাকায় ও সোসাল মিডিয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বেস্ট সিকিউরিটি লজিস্টিক সার্ভিসের ইনচার্জ মোঃ মোয়াজ আহাম্মেদ বাদী হয়ে পটুয়াখালী সদর থানার মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-৪০, তারিখঃ ১৬.০৮.২০২৫, ধারা-৩৯৪ পেনাল কোড রুজু করেন।
এ ঘটনায় জেলা পুলিশের একাধিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন পূর্বক বর্ণিত এটিএম বুথে কর্মরত মোঃ মুজিবুর রহমানকে নৃশংসভাবে মারধর ও দুর্ধর্ষ দস্যুতার মূল রহস্য উদঘাটন এর জন্য পটুয়াখালী জেলা পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। পুলিশ সুপার পটুয়াখালী মহোদয়ের দিক নির্দেশনা ও সার্বিক তদারকিতে থানা পুলিশের ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে বিভিন্ন তথ্য, উপাত্ত সংগ্রহ পূর্বক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এ ঘটনায় জড়িত জাহিদ সরদারকে গত ১৯ আগস্ট সদর থানাধীন মৌকরণ এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতের তথ্য মতে বিভিন্ন জায়গা থেকে সিসিটিভির মনিটর-২ টি, ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল-১টি, দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত সাবল-২ টি, লুষ্ঠিত নগদ-৫ হাজার টাকা, ঘটনার সময় আসামীর পরিহিত-শার্ট ও প্যান্ট উদ্ধার করা হয়।
ভিকটিম মোঃ মজিবুর রহমান এর কাছ থেকে জানা যায় যে, গত ১৬ আগষ্ট রাতে পটুয়াখালী থানাধীন আদালতপাড়া সাকিনস্থ বড় মসজিদ সংলগ্ন ডাচ বাংলা ব্যাংক, ফাস্ট ট্র্যাক বুথে তিনি রাত্র ২ টা হতে ৩.৩০ টার মধ্যে শুয়ে থাকাকালে অজ্ঞাতনামা একজন আসামি বুথে প্রবেশ করে। উক্ত আসামী গামছা দিয়ে তার দুই হাত বেঁধে, কম্বল দ্বারা শরীর ও মুখমন্ডল পেচিয়ে লোহার শাবল দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে তাকে মারতে থাকে। এতে তার বাম কাঁধের হাড় ভেঙে যায়, বাম চোখ ও মাথায় গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। পরবর্তীতে তাকে টেনে হিঁচড়ে পুরাতন আদালত ভবনের বারান্দায় ফেলে রেখে যায়। অতঃপর আসামী বুখের এটিএম ভাঙচুর করে টাকা নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে বুথের কেচিগেটের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে এটিএম বুথের ভিতরে থাকা DELL কোম্পানীর একটি মনিটর চুরি করে নিয়ে যায়। এরূপ সংবাদ প্রাপ্তির সাথে সাথে থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার একাধিক টিম ঘটনাস্থল হতে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ পূর্বক তা পর্যালোচনা করেন। পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, ঐ রাতে আসামী পটুয়াখালী পৌরসভাধীন এটিএম বুথ ছাড়াও আরো ২টি দোকানে তালা ভেংগে চুরি করে।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে এবং এ ঘটনার সাথে অন্য কোন ব্যক্তি বা সহায়তাকারী জড়িত আছে কিনা তা নিরূপণে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। যেই এই অপরাধে জড়িত থাকুক না কেন, তাদেরকে চিহ্নিত কররেফতারপূর্বক আইনের আওতায় আনার জন্য জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পড়ুন : পটুয়াখালীতে সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন


