২০/০২/২০২৬, ৫:৩৭ পূর্বাহ্ণ
21 C
Dhaka
২০/০২/২০২৬, ৫:৩৭ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

পটুয়াখালীতে সুদিচক্রকে চার লাখ টাকায় চল্লিশ লাখ টাকা দিয়েও আত্মগোপনে ব্যবসায়ী ফারুক

পটুয়াখালীর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের বশাক বাজার এলাকার একজন প্রতিষ্ঠিত ইলেকট্রনিক  ব্যাবসায়ী ফারুক হোসেন মোল্লা স্থানীয় সুদী কারবারী সোহেলের কাছ থেকে চার লক্ষ টাকা সুদে নিয়ে সর্বশান্ত হয়েও জীবন বাঁচাতে আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ফারুক হোসেনের আত্মগোপনে তার পরিবার ভয় ভীতিতে দিনপার করছে। সুদীচক্রের এরকম কর্মকাণ্ডের সুবিচার চেয়ে এবং ফারুক হোসনে যেন তার পরিবারে কাছে ফিরে আসতে পারে তার দাবী জানিয়ে মানববন্ধন করেছে পরিবারের লোকজন এবং এলাকাবাসী।

বিকেলে বসাক বাজারের  কুয়াকাটা-পটুয়াখালী মহাসড়কের পাশে ঘন্টাব্যপী এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিন শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। এসময় বক্তব্য রাখেন ফারুক হোসেনের স্ত্রী সৈয়দা রাবেয়া সুমি, পিতা দুলাল মোল্লা, শশুর সৈয়দ আব্দুল বারি, বড় মেয়ে ফারিয়া ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্মসাধারণ সম্পাকদ নুরুল আমিন, মাদারবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু হানিফ মিয়া, সাভেক সভাপতি সেলিম মাতুব্বর, ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি মজিবুর সরদার সহ অন্যান্যরা।

ফারুক হোসেনের স্ত্রী সৈয়দা রাবেয়া সুমি জানান, তার স্বামী একজন ভাল মানুষ ও ব্যবসায়ী। দুই সন্তান ও তাকে নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করে আসছিলেন।  কিন্তু ২০২৩ সালে ব্যাবসায়িক প্রয়োজনে সে বসাক বাজার এলাকার আলতাফ মাস্টারের ছেলে সুদিকারবারী সোহেলের কাছ থেকে চার লাখ টাকা প্রতিমাসে ৪৪ হাজার টাকা সুদে গ্রহন করেন। সুদে চার লাখ টাকা গ্রহন করা থেকে তার জীবনে কালো অধ্যায়ের সূচনা হয়।  সুদের টাকা পরিশোধ করার জন্য তিন চার মাস পরে তার বাবার মাধ্যমে ৬ লক্ষ টাকা লোনের ব্যাবস্থা করেন এবং সে তার দোকানের হালখাতা থেকে কিছু টাকা রাখেন। সে সোহেলকে ফোন করে বলে কালকে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে আপনার সকল টাকা পরিশোধ করে দিব। পরের দিন তার বাবার কাছ থেকে চেক জনতা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে। এসময়  তার কাছে ৮ লক্ষ ১০ হাজার টাকা ছিল। ফারুক টাকা নিয়ে মটরসাইকেল যোগে পটুয়াখালী ব্যামাগার মোড়ে আসলে সোহেলের বড় ভাই অলি ওরফে অলি বস তাকে সিগন্যাল দিয়ে বলে আমাকে চৌরাস্তায় নামিয়ে দিবি তখন আমার স্বামী সরজ বিশ্বাসে তাকে নিয়ে রওনা দেয়।  পথি মধ্যে অলি আরেক জন উঠায়, সে লোকটি তার পিঠে অস্ত্র ঠেকিয়ে একটি বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে অনেক মারধর করে এবং তার কাছে থাকা ৮ লক্ষ ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরপরে একটি মহিলা দিয়ে তার সাথে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও করে বলে, আমাকে ৫০ লক্ষ টাকা দিবি না হলে তোর এ সব ভাইরাল করে দিব। তখন সে পয়ত্রিশ লক্ষ টাকায় রাজি হলে তাকে ছেড়ে দেয়। ছাড়া পেয়ে সে তার সম্মান বাচাতে তার আত্মীয় স্বজন ও বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে সুদে নিয়ে ৩০ লক্ষ টাকা যোগার করে অলিকে দেয়। কিন্তু এতেও সুদিচক্রটি ক্ষান্ত হয়নি। একদিকে ছোট ভাই সোহেল অন্যদিকে বড় ভাই টাকা জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। টাকা না দিলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি দিতে থাকে। তাই প্রাণ বাঁচাতে সে আত্মগোপন চলে যায়। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি এবং আমার স্বামী যাতে ফিরে আসে তার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

অন্যান্য বক্তারা বলেন, এই সুদি চক্রটি এলাকায় অনেক পরিবারকে সর্বশান্তন করেছে। এখন ফারুকের পরিবারকে শেষ করেছে। আমরা এই সুদিচক্রের বিচার দাবী করেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : পটুয়াখালীতে গনঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে এবি পার্টির চিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন