বিজ্ঞাপন

পটুয়াখালীতে অসত্য তথ্য দিয়ে হাঁস-মুরগি খামারের ডাক এ্যাটেনডেন্টের এলপিসি স্থগিতের অভিযোগ

পটুয়াখালীতে অসত্য তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করিয়ে সরকারি হাঁস-মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামারের ডাক এ্যাটেনডেন্ট মোঃ মনিরুল ইসলামকে হয়রানি ও তাঁর এলপিসি স্থগিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানাযায়, বিগত ১৬.০৬.১৯৯০ সালে মো: মনিরুল ইসলাম  মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তরে গার্ড হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে বদলীর মাধ্যমে ১৯৯২ সালে সদর উপজেলা প্রানী সম্পদ দপ্তরে গার্ড হিসেবে আসেন এবং ২৫.০১.১৯৯৯ সালে বদলীর মাধ্যমে  পটুয়াখালী হাঁস মুরগীর খামারে ডাক এ্যাটেনডেন্ট হিসেবে যোগদান করেন। এখানে দীর্ঘদিন সুনামের সাথে চাকুরী করে বর্তমানে তার অবসরের সময় একটি কুচক্রী মহল ভুয়া এবং বানোয়াট একটি পাসপোর্টের তথ্য সাংবাদিকদের দিয়ে তার নামে একটি অসত্য প্রতিবেদন তৈরি করান। এই প্রতিবেদনের কপি পটুয়াখালী ডিস্ট্রিক্ট একাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স অফিসারের কার্যালয়ে প্রেরন করে কর্মকর্তাকে ভুল বুঝিয়ে মোঃ মনিরুল ইসলামের এলপিসি স্থগিত করান।
উক্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় সরকারি চাকুরিরত অবস্থায় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে ৩ বছর ৯ মাস ২৫ দিন বিদেশে ভ্রমণ করেন এবং সরকারি বেতন ভোগ করেন।
প্রকৃতপক্ষে সরজমিনের পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ডাক এ্যাটেনডেন্ট মোঃ মনিরুল ইসলাম এর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র, তার আসল পাসপোর্ট এবং তার সার্ভিস বুকে তার নাম মোঃ মনিরুল ইসলাম এবং সকল কাগজপত্রে তার জন্ম তারিখ ১৫.০৯.১৯৬৫ আছে। কিন্তু যে ভুয়া পাসপোর্টির তথ্য দিয়ে মোঃ মনিরুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে অসত্য প্রতিবেদন করা হয়েছে, সেখানে তার নাম দেখানো হয়েছে মনির এবং জন্ম তারিখ- ০৭.০৫.১৯৮০। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে একটি কুচক্রী মহল মো: মনিরুল ইসলামকে হয়রানি করার জন্য একাজ করেছে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, আমি বিদেশে যাই নাই এবং যে পাসপোর্ট আমার বলছে সেটা আমার না। আমার যে পাসপোর্ট রয়েছে তাতে আমার নাম মোঃ মনিরুল ইসলাম এবং আমার জন্ম তারিখ ১৫.০৯.১৯৬৫।  যা আমার সকল শিক্ষাগতযোগ্যতার সনদপত্র এবং জাতীয় পরিচয়পত্র সহ অন্যান্য কাগজপত্রে সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ আছে। কিন্তু ভুয়া পাসপোর্টিতে মনির লেখা এবং জন্মতারিখ-০৭.০৫. ১৯৮০ লেখা আছে। এটা থেকে প্রমান হয় এটা ভুয়া। আর আমার ছুটির বিষয়টা হলো আমার শারীরিক অসুস্থতার কারণে আমার হেড অফিস (প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর, কৃষি খামার সড়ক, ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫) ১২.০৪.২০০৫ তারিখ থেকে ০৭.০২.২০০৯ তারিখ পর্যন্ত ৩ বছর ৯মাস ২৫দিন বিনা বেতনে আমার অসাধারন ছুটি মঞ্জুর করেছে। যার অফিস আদেশের স্মারক নং-এ-৮৯/২০০৯/৭১৪, তারিখ- ২১.০৫.২০০৯। কিন্তু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে আমি অফিসকে না জানিয়ে ছুটি নিয়ে সরকারি বেতন ভোগ করেছি এবং পরবর্তীতে পুনরায় যোগদান করেছি। যা সম্পূর্ণ অসত্য এবং বানোয়াট। আমার সকল কাগজপত্র পর্যালোচনা করলে সব সত্য বেরিয়ে আসবে। আমাকে অহেতুক হয়রানি করা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারের ব্যবস্থাপক ডা: মো: আতিকুর রহমান এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, জেলা একাউন্টস অফিস থেকে ডাক এ্যাটেনডেন্ট মো: মনিরুল ইসলাম এর ছুটির অফিস আদেশ চেয়েছে সেটা আমি আমার অফিস থেকে পাঠিয়ে দিব।

পটুয়াখালী ডিস্ট্রিক্ট একাউন্টস এন্ড ফিন্যান্স অফিসার মোঃ আহসান কবির এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, মোঃ মনিরুল ইসলামের বিষয়ে দুইটি প্রতিবেদন দেখে তার এলপিসি সাময়িক স্থগিত করেছি। তবে তার ছুটির কথা সার্ভিস বুকে উল্লেখ আছে, সেই অফিস আদেশটি চেয়ে পটুয়াখালী আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারের ব্যবস্থাপক চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। ঐ অফিস আদেশটি পেলে স্থাগিতাদেশ তুলে নেয়া হবে

পড়ুন: যশোরের টিটিসিতে তাকামুল পরীক্ষা: প্রবাস যাত্রার নতুন দিগন্ত

দেখুন: গাজীপুরে বনবিভাগের প্রায় ১২ হাজার একর জমি বেদখল |

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন