22.7 C
Dhaka
০৩/০৩/২০২৬, ২:১২ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

পড়ে থেকে নস্ট হচ্ছে ৩০০ ওয়াগন অথচ কেনা হয়েছে নতুন ৪২০ টি

বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের ইয়ার্ডগুলোতে প্রায় দেড় যুগ ধরে পড়ে রয়েছে ৩০০টির বেশি মালবাহী ওয়াগন। একদিকে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ওয়াগন কেনা হচ্ছে। অন্যদিকে খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে এসব পুরোনো ওয়াগন। সান্তাহার, পার্বতীপুর ইয়ার্ডে সবচেয়ে বেশি ওয়াগন পড়ে রয়েছে। মেরামতের উদ্যোগ না নেওয়ায় এগুলো এখন স্ক্র্যাপ (পরিত্যক্ত) হিসেবে বিক্রির চেষ্টা চলছে বলছে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার শ্রমিকেরা বলছেন, ওয়াগনগুলো কারখানায় নিয়ে মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করা সম্ভব। এতে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা সাশ্রয় করা যেত। কিন্তু প্রয়োজনীয় মেটালিসটিক রাবার ইউনিটের সরবরাহ না থাকা এবং চাহিদা কম থাকার অজুহাতে ওয়াগনগুলো ইয়ার্ডে ফেলে রাখা হয়েছে।

তবে রেল উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দাবি, ওইসব বিসি ধরণের ওয়াগনের অর্থনৈতিক সময়-সীমা অনেক আগেই শেষ হয়েছে। ওয়াগুনগুলো মধ্যে রয়েছে কিছু ভ্যাকুয়াম (ব্রেকসহ) আর কিছু ননভ্যাকুয়াম (ব্রেক ছাড়া)। সেগুলো ধীর গতিতে চালাতে হয়। বর্তমান রেলপথে এগুলো চলাচল অনুপযোগী। মেরামত করে চলাচল উপযোগী করা অনেক ব্যয়বহুল। তবে পড়ে থাকা ওইসব ওয়াগনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে ইতিমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে রেলের পশ্চিমাঞ্চলে বিসি ধরণের মালবাহী ওয়াগন রয়েছে প্রায় সাড়ে ৩০০। প্রতিটি প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এসব ওয়াগন আমদানি করা হয়। ওয়াগনগুলোর মধ্যে মাত্র ২১ টি সচল যা সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাসহ রেলের বিভিন্ন রুটে চলাচল করছে। বাকিগুলো দেশের বিভিন্ন জংশন ইয়ার্ডে পড়ে আছে প্রায় দেড়যুগ ধরে। একটি ওয়াগন চলাচলযোগ্য করতে ১৬টি করে মেটালিসটিক রাবার ইউনিট প্রয়োজন হয়। একেকটি মেটালিসটিক রাবার ইউনিটের আমদানিমূল্য ছয় হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সৈয়দপুর রেলওয়ের এক উপসহকারী প্রকৌশলী বলেন, সৈয়দপুর কারখানায় অতি প্রয়োজনীয় মেটালিসটিক রাবার ইউনিটের যোগান না থাকায় দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে বিসি ধরনের মালবাহী ওয়াগন মেরামত করা হচ্ছে না। এ কারণে শান্তাহার জংশন ইয়ার্ডে ৯০টি বিসি ও ২৫টি বিসিএফজি বা হপার ওয়াগন রয়েছে। ছাড়াও পাবনার ঈশ্বরদী ইয়ার্ড থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ আরও ৫০টি ওয়াগন সান্তাহার ডিপোতে এনে রাখা হয়েছে। একই কারণে পার্বতীপুর ওয়াগন ডিপোতে ১২০টি ওয়াগন পড়ে রয়েছে। সব মিলিয়ে রেলওয়ে বিভিন্ন জংশন স্টেসনে প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ৩২৯ ওয়াগন পড়ে আছে।

তিনি আরও বলেন, আট-নয় বছর আগে ভারত ও ইংল্যান্ড থেকে মেটালিসটিক রাবার ইউনিট আমদানি করা হতো। সেগুলো ব্যবহার করে কিছুদিন চলার পর আবার ওয়াগনগুলো অকেজো হয়ে পড়ে। এ কারণে এসব যন্ত্রাংশ আমদানির আর কোনো উদ্যোগ নেয়নি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

এ ছাড়া মালামাল পরিবহনে এসব ওয়াগনের তেমন চাহিদা না থাকায় প্রশাসন এগুলো মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এসব ওয়াগনের বেশির ভাগই নষ্ট হয়ে গেছে। সেগুলো এখন মাদকসেবী ও অসামাজিক কার্যক্রমের আখড়াই পরিনত হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় এই ওয়াগনগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী ঘোষণা করে স্ক্র্যাপ (পরিত্যাক্ত) মালামাল হিসাবে বিক্রির জন্য দরপত্র আহবান করতে পারে।

রেলওয়ে শ্রমিক ইউনিয়ন কারখানা শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ রোবায়েতুর রহমান অভিযোগ করেন, একদিকে কর্মকর্তারা বলছেন রেলে মালবাহী ওয়ানের চাহিদা নেই অন্যদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ে সম্প্রতি ভারত থেকে ৪২০ টি মালবাহী ওয়াগন আমদানি করেছে। অথচ স্বল্পমূল্যের মেটালিসটিক রাবার ইউনিট ও কিছু প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের অভাবে ইয়ার্ডে পড়ে থাকা ওয়াগনগুলো মেরামত করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, কাগজে কলমে অর্থনৈতিক আয়ুকাল শেষ হলেও যদি ব অবকাঠামো ঠিক থাকলে সেগুলো মেরামত করা সম্ভব। যেমন অর্থনৈতিক মেয়াদ উত্তীর্ন অনেক যাত্রীবাহী কোচ (ক্যারেজ) শিডিউলের মধ্যেই জেনারেল ওভার হোলিং শপে (জিওএইচ) এর অথবা প্রকল্পের মাধ্যমে মেরামত করে নতুন প্রাণ দেওয়া হচ্ছে। একইভাবে যে টাকায় একটি ওয়াগন আমদানি করা হয়। মেটালিসটিক রাবার ইউনিট ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ এনে জিওএইচ কিংবা প্রকল্পের মাধ্যমে তার চারভাগের এক ভাগ খরচে ওয়াগনগুলো মেরামত করে এয়ারব্রেকসহ আধুনিক রুপ দেওয়া সম্ভব। এতে কোটি কোটি টাকার মূল্যের পড়ে থাকা ওইসব ওয়াগনও নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে।

এ নিয়ে কথা হয় রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী সাদেকুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, একটি ওয়াগনের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল সাধারণত ৪০ থেকে ৪৫ বছর। কিন্তু পড়ে থাকা ওইসব ওয়াগন প্রায় ৭০ বছর আগের। পুরাতন পদ্ধতিতে তৈরি ওইসব ওয়াগন বর্তমান রেলপথে চলাচল অনুপযোগী। বেশিরভাগেরই বডি, চাকা, বেয়ারিংসহ প্রায় সবকিছুই নস্ট হয়ে গেছে। সেগুলো মেরামত করা সম্ভব নয়। আর যেগুলো মেরামত করা হচ্ছে সেগুলো চলাচল করার পর বার বার অকেজো হয়ে যাচ্ছে।

তিনি জানান, পড়ে থাকা ওইসব ওয়াগনের ব্যাপারে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা সরেজিমন প্রতিবেদন দেওয়ার পর সেগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পড়ুন: পূর্বাচলে ৩শ ফুট ও ঢাকা বাইপাস সড়কে ছিনতাইকারীদের ফাঁদ, টার্গেট দামী মোটরসাইকেল

দেখুন: ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজের উদ্যোগে বিশ্ব মা দিবস উদযাপন 

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন