নীলফামারী সদর উপজেলায় পরকীয়ার জেরে মতিউল ইসলাম (৪৫) নামে এক যুবককে নির্মমভাবে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের কিসামত দোগাছি এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত মতিউল ইসলাম ওই এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার একরামুল হকের স্ত্রী বানু বেগমের সঙ্গে মতিউল ইসলামের পরকীয়া সম্পর্ক চলছিল। বিষয়টি এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে উত্তেজনার সৃষ্টি করে। কয়েকদিন আগে মতিউল ইসলাম ওই নারীকে নিয়ে পালিয়ে গেলে পরে স্থানীয়ভাবে তাদের ফিরিয়ে এনে আপস-মীমাংসা করা হয় এবং বানু বেগমকে স্বামীর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
তবে ঘটনার রেশ কাটেনি। বৃহস্পতিবার রাতে বানু বেগমের ছেলে আলামিনের সঙ্গে মতিউল ইসলামের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় আলামিন ধারালো অস্ত্র দিয়ে মতিউলের গলায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নীলফামারী সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, “হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আলামিনের বাবা একরামুল হক, মা বানু বেগম ও ছোট ভাই আপন ইসলামকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পরকীয়াজনিত বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, পারিবারিক বিরোধ ও সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে, যা প্রতিরোধে প্রয়োজন সচেতনতা ও আইনের কঠোর প্রয়োগ।
পড়ুন- সিঙ্গাপুর থেকে ডিজেলভর্তি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে
দেখুন- রাজধানীতে রাতভর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে হতাশ চালকরা


