পর্তুগালের আকাশে ভোরের আলো ফোটার আগেই যেন অন্যরকম এক আবহ তৈরি হয়। প্রবাস জীবনের ব্যস্ততা, দূরত্ব আর না-পাওয়ার মাঝেও হৃদয়ে জমে ওঠা আনন্দের নাম ঈদ।
শুক্রবার (২০ মার্চ) মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সময় মিলিয়ে পর্তুগালেসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে একযোগে পালিত হয় ঈদ। দিনটি যেন প্রবাসীদের জন্য হয়ে ওঠে এক টুকরো বাংলাদেশ। পরিবার থেকে দূরে থেকেও তারা খুঁজে পান আপনজনের ছোঁয়া; মসজিদের কাতারে, ঈদগাহের ভিড়ে, কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে কোলাকুলিতে।
গত দুদিন আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় এ বছর পর্তুগালের বেশিরভাগ অঞ্চলে খোলা আকাশে ঈদের নামাজ আদায় করার সুযোগ পাননি ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। ফলে রাজধানী লিসবনসহ পোর্তো, ফারো, ভিলানোভা দা মিলফন্টেস, ব্রাগা, ভিজু ও আলগারভসহ বিভিন্ন শহরের মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারগুলোতে সকালে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থাকলেও প্রবাসী কমিউনিটির পারস্পরিক বন্ধন এই দিনে আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে।
লিসবনের সেন্ট্রাল মসজিদে ঈদের জামাতে অংশ নিতে সকাল থেকেই ভিড় করেন বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশসহ স্থানীয় পর্তুগিজ মুসলিমরা।
ঈদ উপলক্ষে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঘরে ঘরে ছিল দেশীয় ঐতিহ্যের ছোঁয়া। হরেক পদের ঐতিহ্যবাহী খাবার রান্না এবং একে অপরের বাসায় উপহার নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করেন তারা। দেশটির স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে ।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

